Saturday, December 27, 2025

অভিসার 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

👩👩অভিসারে বেরোলেই দমকা ঝড় বয়, 

বৃষ্টি পড়ে পিট -পিটিয়ে। 

লাজুক নত ফুল পাতা নুইয়ে থাকে, 

নিস্তেজ সন্ধ্যা আসে ঘনিয়ে। 


ঠা- ঠা রোদেও গিয়েও শান্তি অমিল, 

ছায়া হীন দুর্গম আঁকাবাঁকা পথ। 

ঘামে ভেজা শরীর বিষাদে ক্লান্ত, 

বারে বারে মনে জাগে মিথ্যে শপথ। 


খেজুর রস ফুটতে ফুটতে সোনা, 

যাই তবে ঘুরে আসি  বৈকুন্ঠ পুরে। 

হারিয়ে যাই কুয়াশার আড়ালে চুপি চুপি, 

নিজেকে খুঁজে পাই একটু একটু করে


শ্বেত গোলাপ দিয়ে প্রেয়সী অভিসার ভোলে, 

কোথাও নিখোঁজ একলা পথে। 

চিরন্তন প্রবাহ স্রোত ঝরনা হয়ে মেশে--

আকুতিও চলতে থাকে সাথে সাথে। 👨👨

বগুলা নদীয়া

27/12/2025



Saturday, December 20, 2025

এক,দুই, তিন

 এক, দুই, তিন

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী


😢এক দুঃখে পেলাম আজই

হলদে সবুজ মাঠ,

সুখ চিকিয়ে উঠলো দেখি

ময়না মতীর ঘাট।


গভীর আমার দুই দুঃখ

মাঝ নদীতে ভাসি,

ঘুরে ফিরে তোমার কাছেই

হাসতে হাসতে আসি।


হঠাৎ আবার তিন দুঃখ

দাঁড়িয়ে আছে দূরে,

মন সায়রে ডুব দিয়েছি

থাকবো না আর ঘরে।😔😔



বগুলা,নদিয়া,

২০/১২/২০২৫



Wednesday, December 17, 2025

সেই আমি



💓💓 যদি হঠাৎ করে বইতে থাকে মাতাল ঝোড়ো হাওয়া

হৃদয়ের অলি-গলি হারিয়ে ফেলুক যত জমানো আর্বজনা।

তখন দেখো তোমার বুকেই আমার ছবি খানা---

দিব্যি আছে, চোখ গুলোতে তেমনি কাজল টানা।


যদি সুনামি স্রোতে ভাসে আচম্বিতে তোমার সুখের ঘর,

সাগর,নদী,খাল-বিল মিলে -মিশে হয় কখোনো একাকার,

সেদিনও খুঁজে পাবে বিপর্যয়ের ক্লান্ত কালো রাতে

আমাকে একান্তে, চারিপাশে কেবল নিশ্চূপ চরাচর।


যদি বরফের চাদরে ঢাকে ফলন্ত  আপেল বাগান অকস্মাত,

সকল রঙ মুছে হারায় নির্জন কোনো পাহাড়ি চেনা বসতি------

তার পরেও সেই আমি, তোমাকে ডাকি অজান্তে,

শুনতে পাবে চেনা সুর, তবুও তোমার থাকে নিদ্রাহীন নিশুতি।🌘🌘


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া,

১৭/১২/২০২৫









Saturday, December 13, 2025

শীত

সাত সকালে ডুব দিয়েছি 

শীত পালালো দূরে। 

সরষে ফুলে হীরের কণা

পড়ছে ঝরে ঝরে। 


ডাহুক পাখি লম্বা পায়ে

খাবার খোঁজে জলে। 

শালুক ফোটে গায়ের বিলে

পাপড়ি গুলো মেলে।


নতুন বউ হাসতে থাকে

গুড় খেয়েছে বলে। 

চাদর গায়ে হাঁটতে গেল

ছাগল নিয়ে কোলে। 


শীতের আমি, শীতের তুমি

হাজার ঘুরে ঘুরে, 

খিদে কেবল লেগেই থাকে

খাবার থরে থরে। 


একটু যদি শীত না পড়ে 

কেমন যেন লাগে। 

মুড়ির মোয়ায় মন ভরেছে

হারাই অস্ত রাগে। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা নদিয়া,

১৩/১২/২০২৫







Thursday, December 11, 2025

খুন(কাল্পনিক চরিত্র)


    

,😗😗  

সাংবাদিক -" স্যার, গতকাল খুন পট্টিতে এক মহিলা নৃশংস ভাবে খুন হয়েছেন। এই বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন?"

 নেতা- "দেখুন যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক । তবে খুন পট্টিতে যে দু-একটা যে খুন হবে না এ কথা কেউ হলফ করে বলতে পারে না ।কিন্তু আপনি অন্য রাজ্যে দিনে কতগুলো খুন হচ্ছে যেখানে আমরা নেই তার খবর রাখেন কি? মিডিয়া কি এগুলো প্রচার করে?"

 সাংবাদিক--"আমি  এই খুনটার বিষয়েই জিজ্ঞাসা করছি।"

 নেতা--"আপনি অন্য রাজ্যের কথা একবার ভাবুন। সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা জানুন।"

 সাংবাদিক--"আমি নির্দিষ্ট এই রাজ্যের ওই মহিলার খুনের কথা আপনাকেই বলছি

-- নেতা--" বললাম তো ,এই রাজ্যের বিরোধীরা যারা একটা দুটো সিট পায় তাদের এসব ন্যারেটিভ। এইগুলি আমরা মেনে নেব না  কিংবা রাজ্যের আমজনতা ও এটা মেনে নেবেন না।"


সাংবাদিক--"স্যার আমি তো এই খুনটার বিষয়েই জিজ্ঞাসা করছি এবং এই খুনটার বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? "

-- নেতা -- "জানেন, দুঃখের বিষয় হল কিছু সাংবাদিক আজকাল আমাদের কথা শুনছে না। শুধু বিরোধীদের কাছে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছেন ।ওদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন তাদের রাজ্যে কতগুলো খুন হয়েছে? কত মানুষ সঠিক  বিচার পায় ?বুলডোজার ট্রিটমেন্ট করে তাদের কে রাজ্য ছাড়া করছে।"

 সাংবাদিক--"স্যার আমি কিন্তু........."

নেতা --" কি কিন্তু? খুনের ব্যাপারে আমরা যা করে থাকি তার কানা কঁড়ি ও অন্য রাজ্যে করে থাকে না ।পুলিশকে বলে দেওয়া আছে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে পাকড়াও করতে। আইন আইনের পথে চলবে ।"

সাংবাদিক --" বলছিলাম কি স্যার, এই খুনটার পিছনে আপনার দলের লোকই নাকি জড়িত আছে।  তিনি নাকি আবার আপনার ডান হাত?"

নেতা  -"কি সব আজেবাজে কথা বলছেন । যে বিষয়টার তদন্ত চলছে, সেই বিষুয় নিয়ে কথা বলছেন ।ডান হাততো আমার কাছেই রয়েছে ।এই দেখুন হাত উঁচু করে দেখাচ্ছি।"

সাংবাদিক " ডান হাত বলতে বিশেষ পরিচিত এটাই বোঝাতে চাইছি ।আপনি কিন্তু ধান ভানতে শিবের গীত গাইছেন।"       

এই ভদ্রমহিলার খুনের ব্যাপারে আপনার কি প্রতিক্রিয়া দয়া করে জানাবেন একটু আমাদের?

নেতা --আপনি জানেন ১৯৪৫ সালে কত মানুষ খুন হয়েছিল ?কত মানুষ সর্বশান্ত হয়েছিল জানেন ?সেটা এক কথায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ।সে সময় কারা ক্ষমতায় ছিল ?আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না।"

সাংবাদিক - আমি এই রাজ্যের গতকালের খুনটার কথা বলছি, যেটা খুন পট্টিতে হয়েছে।"

নেতা - " বললাম তো, এখন এটা বিচারাধীন বিষয় ।তদন্ত চলছে ।আইন আইনের পথে চলবে। ডান হাত বাম হাত বলে কেউ নেই। সবই  উপরওয়ালার হাত।"

 কে মরবে কে বাঁচবে সবই তাঁর ইচ্ছা ।ভক্তি মায়ের উপর ভরসা রাখুন ,সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ধন্যবাদ।"


 --পুলিশ নাকি সক্রিয় নয় এ ব্যাপারে কিছু বলবেন?

--পুলিশ কখন সক্রিয় হবে আর কখন নিষ্ক্রিয় হবে সেটা কি আমি আপনি বলে দিতে পারি? বললাম তো ভক্তি মায়ের উপর ভরসা রাখুন। তিনি একবার চোখ তুলে চাইলে সব আসামি ছাড়া পেয়ে যাবে।"

--কি বলছেন আপনি?আসামী ছাড়া পেয়ে যাবে মানেটা কি?"

নেতা - "সরি ভুল হয়ে গেছে, ওটা হবে সব আসামি প্রেসিডেন্সিতে ঢুকে যাবে। ওখানে ভালো ট্রিটমেন্ট হয়। ঘন্টায় মিনিটে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয় তারও প্রেসিডেন্সিতে গেলে সব রোগ ঠিক হয়ে যায় ।এমনই কড়া দাওয়াই দেওয়া হয় ওখানে ।আমরা কিছু করি না মানে? ওই মহিলার একাউন্টে কত টাকা মাসে মাসে ঢুকেছে আগে সেটা তো দেখুন তারপরে খুনের কথা বলবেন ।আমরা মানুষের জন্য কাজ করি ,দেশের জন্য কাজ করি। বুঝলেন।"

"আমি একটু ব্যাস্ত আছি  ওপারে আবার দাঙ্গা না মারামারি শুরু হয়েছে শুনছি। তিন তিনটে মানুষ খুন হয়েছে ।হ্যালো ভক্তি মা।" আমি কি ওই মারামারি ঠেকাতে যাব কিম্বা  স্পটে যাব?"

 ভক্তি মা--" কি-রে বাদশা বলছিস ?আরে না না ওখানে যাসনে। বাহিনী এসেছে, ওরা যা পারে তাই করবে, বরঞ্চ তুই সকাল সকাল লুচি পরোটা খেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করিস ।তুই তো আবার ভীষণ দুষ্টু। তাই না।"

আচ্ছা ভক্তিমা" তাই হবে । আপনি যেটা বলবেন। আজকে আমার একটু কাজ আছে। আর কথা বলতে পারছি না। ধন্যবাদ।"🔻🔻


ডাঃ কাজাল কুমার বক্সী

বগুলা,নদিয়া,

১১/১২/২০২৫

Tuesday, December 9, 2025

তিন দিকে তিন মোড় রয়েছে

 🌿🌿ওই যে বললাম ,তিন দিকে তিন মোড় রয়েছে। 

প্রথম মোড়ে শাপলা বাওড়, আয়না খানা হার মেনেছে। । 


এগিয়ে গেলেই আর একটা, তালের সারি অনেক দূর। 

হারিয়ে তুমি যেতেই পারো, শুনতে পারো বাঁশির সুর।। 


শেষ মোড়েতে আঁচলপাতা সবুজ সবুজ চাষের জমি। 

ওইখানেতেই তোমায় পাওয়া, হিমেল হাওয়ায় বিভোর আমি। । 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা 

নদীয়া, 

৯/১২/২০২৫🌴🌴

Thursday, November 27, 2025

সামাজিক

 😐😐

প্রশান্ত বাবু কলকাতা্র সন্নিকটেই  এক পেল্লায় বাড়ি করেছেন। বাড়ি বললে একটু ভুলই হবে। ওটা একটা ডুপ্লেক্স সাজানো বাংলো। প্রায় সব ধরনের ফুলের ও অর্কিড গাছের ছড়াছড়ি ।এক কথায় অনবদ্য বাড়ির পরিবেশ।দিনের আলো পড়তে শুরু করলেই বাংলোর প্রতিটা নিয়ন বাতি গুলোর আলো ঝলমল


করে ওঠে ।স্বর্গীয় পরিবেশের ছোঁয়ায় প্রশান্তবাবু এক বুক প্রশান্তি নিয়ে ব্যালকনিতে বসে বিকালে চা খান তারিয়ে তারিয়ে প্রত্যেক দিন ।এ পাড়াতে তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন ।বাংলোতে ওনার স্ত্রী এবং এক মেয়ে মোট তিনজনই থাকেন। প্রশান্ত বাবু নাম করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ।বড় কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাকুরী করছেন।...বেশ অর্থশালী ও বটে ।বাড়ির সামনে দুই দুটো গাড়ি সাজানো থাকে ।

ওই পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা ডাক্তার অনিমেষ ব্যানার্জি বিখ্যাত জেনারেল সার্জেন । তিনি প্রত্যেকদিন এই পাড়ার চওড়া রাস্তা ধরে মর্নিং ওয়াক করেন। একদম সময় মেপে । প্রশান্তবাবু সঙ্গে ডাক্তার ব্যানার্জীর পরিচয় আছে বেশ ভালই ।মাঝেমধ্যে দেখা সাক্ষাৎ হলে ছোটখাটো নানান ধরনের কথাবার্তা হয়।

হঠাৎ একদিন ডাক্তার ব্যানার্জি প্রশান্ত বাবু কে জিজ্ঞাসা করলেন " আচ্ছা প্রশান্ত বাবু ,আপনার বাড়িতে তেমন কোন লোকজন বন্ধু-বান্ধব ,আত্মীয়-স্বজনকে আসতে দেখি না যে !কি ব্যাপার ? "

প্রশান্ত বাবু আস্তে হেসে বললেন  "আমরা একটু  ফাঁকা ফাঁকাই থাকতে পছন্দ করি। বেশি ঝুট ঝামেলা ভালো লাগেনা । আসলে মা-বাবা, ভাই টাই সবাই গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। ওরা ঠিক এই পরিবেশে আসতে চান না কিংবা থাকতে চান না । বলে কিনা। " এত আলোর মধ্যে ঘুম হবে না ঠিক ।" আর আমার যা কিছু  পৈত্রিক সম্পত্তি সব ভাইয়েরা এক কথায় জবরদখল করেই আছে । আমার স্ত্রী এই ব্যাপারটা একদমই মেনে নিতে পারেননি। উনিও উনিও গ্রামের যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন ।আর আমার মেয়েও গ্রামের পরিবেশ একদমই পছন্দ করেনা ।"

বাড়িতে মেয়ের টিউশন ,ছবি আঁকার্ ও গান শেখার মাস্টারমশাইরাই যাতায়াত করেন ।আমি বাড়ির বাইরেই পার্টী কিংবা উৎসব যা কিছু করার করি ।" ডাক্তার ব্যানার্জি বললেন ,"ও আচ্ছা ব্যাপারটা বুঝলাম । আচ্ছা চলি আজকে ,ভালো থাকবেন। "

এর পর ৫ বছর দেখতে দেখতে কেটে গেছে  ।বাংলোর পরিবেশ এক কথায় বদলে গেল হঠাৎ করেই । তারপর প্রশান্তবাবু  যকৃতের রোগে আক্রান্ত হলেন ।এক কথায় প্রথম পর্যায়ের সিরোসিস অফ লিভার । ধীরে ধীরে হাতে-পায়ে জল জমতে শুরু করল ,আর জন্ডিস তো আছেই । তিনি দুর্বল  ও রোগে ভগ্ন প্রায় হয়ে পড়লেন ।

ভাগ্য সব সময় ছন্দে এবং সহায় হবে এ কথাটা কেউ হলফ করে বলতে পারে না ।প্রশান্ত বাবু কি ভেবেছিলেন তার জীবনে এরকম দুর্দিন নেমে আসবে। প্রশান্তবাবুর স্ত্রী স্বামীর শরীরের কথা চিন্তা করতে করতে একদিন হঠাৎই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। ব্যাস মাথা ফেটে চৌচির ।তার মেয়ে তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে করে লোকাল এক সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেল এবং সেখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দিল । নিজের বাবা ও মা এইভাবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে প্রশান্তবাবুর মেয়ে নীলাঞ্জনা আকুল পাথারে পড়ল। কি করবে ভেবেই উঠতে পারছিল না । সঞ্চিত অর্থ ধীরে ধীরে কমে আসছ।।পড়াশোনা প্রায় লাটে উঠেছে। প্রসাদসম   বাংলোতে যেন অন্ধকারের কালো ছায়া ঘিরে ধরল আস্তে আস্তে ।বাড়ির সব আলো আর ঠিকমতো জ্বলছে না।

সবাই ফিসফিস করে বলতে শুরু করল," কি থেকে যে কি হয়ে গেল সংসারটা ! কি সুন্দর সাজানো সংসার ছিল । " ছেলে বৌমার এই দুর্দশার কথা জানতে পারার পর থেকে প্রশান্তবাবুর মা ও বাবা ছেলেকে দেখতে আসলেন এবং থেকে গেলেন কয়েক দিন। ভাইয়েরাও একে একে দেখে গেলেন ওদের। যে যেভাবে পারল এই বিপদের দিনে পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করল ।প্রশান্তবাবু পৈত্রিক সম্পত্তি ভাইয়েরা বিক্রি করে দাদাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেন ।দিন সব সময়   একই লয়ে চলে না। প্রশান্ত বাবু ভালো হাসপাতালে লাগাতার চিকিৎসার ফলে আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠতে শুরু করলেন ।তাঁর  স্ত্রীও এখন অনেক সুস্থ ।প্রশান্ত বাবু চিকিৎসকদের অশেষ ধন্যবাদ ও প্রশংসায় পঞ্চ মুখ সারাদিন । ভগবান রুপে তাঁরা তাকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলেছেন সে কথা জনে জনে জানাচ্ছেন তিনি ।বেশ কয়েক মাস পরে প্রশান্ত বাবু অফিসে গেলেন ।ওর স্ত্রী কলা পেঁপের মাছের ঝোল রান্না করে খাওয়ালেন।মেয়ে আবারও পড়তে ও ছবি আঁকায় মন দিল।  কিন্তু সবার মনেই একটা আশঙ্কা প্রশান্ত বাবু আবারো কোনো অসুবিধা না হয়। যাই হোক প্রশান্ত বাবুর  বাড়িতে ধীরে ধীরে সব আলো গুলো আস্তে আস্তে জ্বলতে শুরু করলো ।আবারও ডাক্তার ব্যানার্জি সেদিন বললেন , "প্রশান্তবাবু সুস্থ হয়ে বাড়িতে আছেন শুনে ভালো লাগলো। আরো জানালেন ,কোন অসুবিধা হলে তাকে যেন জানানো হয়, " প্রশান্ত বাবু বললেন , "অবশ্যই, আপনি অনেক সাহায্য করেছেন তার জন্য চির কূতজ্ঞ  আমি ।" ডক্টর ব্যানার্জি বললেন, " আরে না না ,এগুলো যদি আমি না করি তাহলে সার্জেন হলাম কেন ?আপনি ভালো থাকবেন ও খাওয়া দাওয়ার দিকে  বিশেষ নজর রাখবেন সবসময় । নিয়মিত চেকআপ করাবেন তাহলেই ভালো থাকবেন ।চলি তাহলে আজকে, পরে আসবো আবারো কথা হবে "

প্রশান্ত বাবু ব্যালকনিতে বসে আজকের সকালের রোদ গায়ে লাগিয়ে খবরে কাগজ নিয়ে চা খেতে বসলেন । তাঁর বাগানের রং-বেরঙের ফ ফুলগুলো প্রশান্ত বাবুকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলল ।

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওই যে বললাম, দিন সব সময় সকলের সমান যায় না ।প্রশান্ত বাবুও আজকাল অনেক সামাজিক। 

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া,

২৭/১১/২০২৫



Thursday, October 2, 2025

ভালো ছেলে

😀😀 বুকুনের নেই কোনো দামি মটোর সাইকেল,

পকেটে গার্ল ফ্রেন্ডের লিস্টও থাকে না।

সে পড়াশোনা করে,ছবি আঁকে,গান করে,

বুকুন ভালো ছেলে ,বাজে বকেনা।


সবাই বলে ' ও বড়ো ডাক্তার হবে কিংবা নাম করা বিজ্ঞানী''

ওর মা কিন্তু বলে '' বুকুন ভালো মনের মানুষ হোক''

কালের গতিতে দিন যায়, বছর যায় বারে বারে

ফুলে ফুলে ভরে যায় চেনা শহরের অশোক।


বুকুন বর্তমানে বিখ্যাত কলেজের এক গবেষক।

কিন্তু ভারী দুঃখ বাবা, জেঠু, কাকার ও পাড়ার সবার।

ওর নাকি গবেষনার বিষয় একদম অন্য রকম,

সব রকম দুর্নীতি নিরাময়ে ভ্যাকসিন আবিস্কার।


বুকুনের কোনো হেল-দোল নেই  ওই সব নিয়ে

মানুষের জন্য বড় দায়িত্ব রয়েছে  তাঁর কাঁধে।

তবে অনেক প্রচেষ্টার পর সাফল্য এলো এক দিন,

নুতন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হলো দুর্নীতি রোধে ।


সবাই ধন্য ধন্য  করতে লাগলো বুকুন কে নিয়ে

কিছু দিনের মধ্যেই গবেষক হয়ে পড়লো হতাশ।

 দেশের মানুষই ওই ভ্যাকসিন নিতেই চাইলোনা কখনো,

তাইতো দেশে  এখনো রয়েছে বিষাক্ত বাতাস।👩👩


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া 

২/১০/২৫








Friday, September 26, 2025

ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর

এই যুগে দুঃখহারী হতে চাইলে

তাহলে তুমি বিদ্যাসাগরকে বোঝো।

 জীর্ণ সমাজ ভেঙ্গে নুতনের আশায়

বারে বারে ঈশ্বর চন্দ্রকেই খোঁজো।


মহান দানের আভিলাষে তুমি

এই অম্লান দানব্রতীর কথা জানো।

চির অন্ধকারে আলো দেয়ার অভিপ্রায়ে

অবশ্যই এই নিষ্ঠাবান পন্ডিতকে মানো।


শত আঘাতে নিজ গৃহ ত্যাগের ইচ্ছায়

একটি বার কারমাইল ঘুরে এসো।

নিজেকে ফিরে পাবে নুতন আশ্রয়ে

কখনো বা একাকীত্বকে ভালোবাসো।


সমাজ গড়ার কারিগর হওয়ার দীক্ষায়

আজও এই বহতা সাগর কে ডাকো।

ঈশ্বর চন্দ্র বাঙালীর আকর ,সবকিছু

তুমি তাঁকে চির দিন বুকে ধরে রাখো।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া,

২৬/৯/২০২৫





 

Sunday, September 21, 2025

কেনো মারছো

🐦🐦জল ময়ূরের লম্বা পাও 

ডানার নীচে লুকিয়ে ছাও।

পদ্ম পাতায় টল-টলে জল

বাঁধা আছে কাঠের নাও।


মাছ রাঙ্গার আলতা ঠোট

ছোঁ-মেরে খায় জ্যান্ত মাছ।

শালুক ফোটে দিনের বেলা

পুকুর ঘিরে সবুজ গাছ।


তিলে  ঘুঘু ডাকছে কেবল

ঘাড়  ফুলিয়ে গায়ের পথে।

ধূসর  রঙের পালক গুলো

কালো-সাদা ফোঁটা সাথে।🐓🐓


উঠোনে গলা-ফোলা ছাতারে

খাবার খোঁজে ,ঝগড়া করে।

ধূলোর রঙ্গে রাঙ্গিয়ে নিয়ে

দল  বেধেই আসবে ঘরে।


হাজার পাখি আমার দেশে

হারায় কেনো এমনি করে?

যার চোখেতে মায়ার খেলা

তাকেই তুমি মারছো তীরে।🠊🠊


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা , নদিয়া, পশ্চিম বঙ্গ

২১/৯./২০২৫





Thursday, September 18, 2025

শুধু আমার কথা

আমিতো শুধু আমার কথাই বলি ,

এই পোড়া শহরটার কথা,শ্রীহীন নিজের বাড়িটার কত কথা।

সুখ-দুঃখের ,মান-আভিমানের ,পাওয়া-না পাওয়ার সাত কাহন।


গায়ে গায়ে লেগে থাকা বস্তির বাড়ি গুলো কুয়াশা মাখা ভোরে

আগুনের শিখায় নিমেষে পুড়ে খাক হয়ে যায়।

দৌড়ে গিয়ে নিজের ক্লাসের পড়ার বইটা বাচায় বাচ্চা মেয়েটা।

তার কাঁচা স্বপ্নও আগুনের তাপে ঝলসায়।


এইতো সেদিন খোলা সেলুনের বড় আয়নায় দেখলাম শ্রীতমার চেনা মুখ।

কত বছর চলে গেছে,গঙ্গায় পলি পড়ে পড়ে কত না চর পড়েছে,

তবু শ্রীতমাকে চিনতে ভুল হয়নি, সে কথা কিন্তু কাউকে বলিনি।


শ্রীতমা সবে খোঁজ নিতে শুরু করেছিল আমার মাথায় কতো পাকা চুল

তার পরে যা হয় , হয় পড়তে চলে যাওয়া , না হয় বিয়ে,

দুই একটা চিঠি ছিল, থাক বিষয় বস্তু নাই বললাম আজকে।


আমি শুধু আমার কথাই বলি

ডাল ভাতের জন্য প্রতিবাদের মিছিলে  হেঁটে ছিলেন আমাদের মাষ্টার মশাই,

তিনি কিন্তু ফিরে আসেননি, আসবেন নাও কখনো, সে কথাতো সবাইকে বলেছি।


ডাঃকাজল কুমার বক্সী

বগুলা পুরবা পাড়া, বগুলা, নদিয়া,

১৮/৯/২০২৫










Saturday, September 13, 2025

হারাইনি সব

                 হাজারো অন্ধকারের শক্ত দরজা গুলো বন্ধ করে
একটাই উজ্জ্বল আলোর জালানা খুলে দেখি
বর্ষায় হলুদ বরন আধ খোলা কাঠাল চাঁপা ফূল।

অনেক অনেক বিষন্নতার অলি গলি ছেড়ে
এক চড়া রোদের প্রতিবাদের ভারে নুয়ে পড়া সকালে
দল বেধে ঘুরে আসি মিরিক থেকে ঘুম।

একলা জাগা হিমেল রাতের নিঃশব্দের কান্না ভুলে
ধূঁ- ধূঁ মরু ভূমির দিগন্ত রেখা ধরে হাঁটি খুশিতে
উটের সারি চলে দুলে দুলে একেবারে নিশ্চুপ।

রাশি রাশি হাঁ-হুতাশ পবিত্র গঙ্গার জলে ফেলে
সুন্দর বনের বাঘের চোখে চোখ রেখে বলি
"আমি এখনো বেচে আছি, হারাইনি রঙ্গিন প্রানের সব।"

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা পূর্ব পাড়া, বগুলা, নদিয়া
১৩/৯/২০২৫




Monday, August 18, 2025

লুচি

রুটি গোল  লুচি গোল

গোল হাতের বালা।

খাওয়া নিয়ে গন্ডগোল

গোল কাঁসার থালা।😚😚


🍂🍂পাতা সরু গাছ সরু

সরু জলের নালা।

সরু সূঁচ সরু সুতো

সরু চিকন কালা।


👀👀বাঁকা পথ বাঁকা নদী

হাজার বাঁকা কথা।

বাঁকা রেখা বাঁকা দৃষ্টি

বাঁকা গল্পগাথা।


খাটো পথ খাটো জামা

খাটো মানুষ ভোলা।

খাটো দরজা খাটো ঘর

খাটো মেয়ের গলা।


✍✍লম্বা হাত লম্বা চুল

লম্বা গাছের ছায়া।

লম্বা চিঠি লম্বা স্বপ্ন

লম্বা ছুটির মায়া।


চৌকো বাক্স  চৌকো জমি

চৌকো টেবিল পাতা।

চৌকোণাতে চৌকো খুঁটি

চৌকো চালে লতা।𐳱𐳱


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া , পশ্চিম বঙ্গ

১৮/৮/২০২৫






Saturday, August 16, 2025

স্বাধীনতা

🚩🚩বিবর্ণ আর হতাশার পথ বেয়ে
উজ্জ্বল স্বাধীনতা আসে আমাদের দুয়ারে। 

অদম্য সুখের সমৃদ্ধির বেড়াজাল ছিড়ে
মানুষ পথে নেমেছে আজও প্রতিবাদে। 

প্রতিহিংসার মৃত্যু লাশ বয়ে যায় খরস্রোতা নদে, 
স্বাধীনতা  গায়েব হতে শেখায় না ,মুক্তির পথ খোঁজে। 

ভোরের সকালে গুম হয়ে যায় শিশু কিংবা মেয়ে, 
স্বাধীনতার পতাকা ধরবে না আর তারা, এই দিনে। 

স্বাধীনতায় উড়তে থাকে লম্বা ডানাওয়ালা সমুদ্রের পাখি, 
 মাসের শেষে কিছু টাকা নিয়ে, আমরা বেশ ভালো আছি। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী
বগুলা পূর্ব পাড়া, নদিয়া পশ্চিম বঙ্গ


১৬/৮/2025






Sunday, August 10, 2025

যদি ভাসতে পারো ।

☁☁ অজানা কোনো মেঘের মতো ভাসতে পারো যদি

তবেই তোমায় দিতে পারি এক নির্জনতার নদী। 


সপ্ত চূড়ার পাহাড় থেকে যখন আলোর স্রোত বয়

তোমার সঙ্গে ভাসবো না হয় ,ঘুরবো ভুবনময়। ⛅⛅


☱যদি পদ্ম পাতার সবুজ হয়ে ভাসতে পারো জলে, 

তবেই তোমায় আসতে দেব এই পাহাড়তলীর ঝিলে। 


লক্ষ্য হীরের দ্যুতি আর নিচে রঙিন নুড়ির ছবি, 

তোমার সঙ্গে ডুবতে রাজি আড়াল হলে রবি। 


ভাসতে পারো যদি নরম শিমুল তুলোর মতো, 

তবেই তোমায় দেবো হাজার ঘুড়ির সুতো। 🪁🪁


রং জড়ানো স্বপ্নগুলো ভিজে হাওয়ায় ওড়ে, 

ভাসতে ভাসতে হারিয়ে গেল নিশুত রাতের ঝড়ে।

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা পূর্ব পাড়া, নদিয়া, পশ্চিম বঙ্গ

১০/৮/২০২৫






Sunday, August 3, 2025

সুখ এবং দুঃখ

 দুঃখ হারাতে

আরো বড় দুঃখের সন্ধানে যাই।

নিজের ভাঙ্গা-চোরা বেদনা তখন নিজেকে হারায়।


সুখ খুঁজতে

নেমে পড়ি আরো অনেক সুখের তল্লাশীতে।

আপন খুশি স্থান পায় নিখোঁজের তালিকায়।


সুখ এবং দুঃখ

ওরা যমজ দুই ভাই, বড্ড আদরের,

কখন আসে কখন যায় বোঝা দায়।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া, পশ্চিম বং।

২/৮./২০২৫






Tuesday, July 29, 2025

একটি তো নয়

 🐦🐦একটি তো নয়... 

দুটি শালিক

ভিজছে সারা বেলা। 

বেলের পাতায় নিমের পাতায়

বৃষ্টি পড়া খেলা। 


একটি তো নয়... 

তিনটে ছাতার

সকালবেলায় আসে। 

মাটির দাওয়ায় কিচিরমিচির

চিক চিকানি ঘাসে। 🐦🐦🐦


🐦🐦🐦🐦একটি তো নয় .... 

চারটি দোয়েল

তারের উপর বসা। 

কালো সাদা এক শরীরে

জল ছেটানো নেশা। 


একটি তো নয়... 

পাঁচটি ফিঙ্গে

লেজ নাড়িয়ে চলে। 

কালোর মধ্যে কালো চোখ

সোনা মানিক দোলে। 🐦🐦🐦🐦🐦


একটি তো নয়.... 

ছয়টি কাক

নোংরা সাফাই করে। 

ঘুম ভেঙে যায় ডাকের চোটে

বন্ধু বলি তাকে। 


একটি তো নয়... 

সাতটি চড়াই

দেখা পাওয়াই ভার । 

ধানের গোলা হারিয়ে গেছে

সুখ নেই কো আর ।🐦🐦🐦🐦🐦🐦🐦


🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜একটি তো নয়

আটটি টিয়া

ওই দেখা যায় দূরে। 

দালান ঘরে বাসা তাদের

মেঘ এসেছে ঘিরে। 


একটি তো নয়

 নয়টি হাঁস

দাঁড়িয়ে পুকুর পাড়ে । 

আধার সরে রোদ উঠেছে

গঙ্গা ফড়িং ওড়ে। 🦆🦆🦆🦆🦆🦆🦆🦆🦆


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা পূর্ব পাড়া, নদিয়া, পশ্চিম বঙ্গ

২৯/৭/২৫



Tuesday, July 22, 2025

ঘরের ছেলে

 👦🤵 খুনের পর খুন। 

তারপরে আবারো খুন। 

রক্ত মিশে যায় আদি গঙ্গার জলে, 

বৃষ্টি পড়লেই রাস্তা পরিষ্কার। 

আইন তো আইনের পথেই চলে, 

তবু কোল ফাঁকা থাকে আজও। 

ঘরের ছেলে ঘরে আসেনি এখনো। 

দাবানল থেমে যায় ইঙ্গিতে, 

প্রতিবাদের ছেলেরা ঘরে ফেরে না কখনো। 👥


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া, পশ্চিম বঙ্গ


২২/৭/২৫


Thursday, July 17, 2025

যেতে বললে

 যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

কুয়াশার চাদর সরিয়ে, রাস্তা খুঁজে খুঁজে

পাহাড়ের গায়ে ভাসা ভাসা মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে

ঝুম চাষের সবুজ দুই হাতে নিয়ে নিয়ে

তবেই তো বসা যায় চেনা নদীটির পাড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

ছবি তুলে তুলে ,হাতির পিঠে দুলে দুলে

তোমাকে না হয় ভুলেই যাব হঠাৎ পলে পলে। 

রোদের ছটায় হাসুক পাহাড় আকাশ নীলে নীলে। 

দলে দলে প্রজাপতি খেয়াল খুশি ওড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

চায়ের পাতায় বৃষ্টি পড়ে সোহাগ দিয়ে দিয়ে। 

হারাই যদি উল্টো পথে বনের ছায়ে ছায়ে

ময়ূর পালক কুড়িয়ে নেবো, চলবো পায়ে পায়ে। 

তোমাকে না হয় খুঁজবো তখন হাজার লোকের ভিড়ে। 


যেতে বললে তো আর যাওয়া যায় না। 

কত রকম পাখি ডাকে বনের মাঝে মাঝে, 

সারা সকাল ব্যস্ত থাকে কেবল নিজে নিজে। 

তুমি না হয় ভুলেই থেকো হাজার কাজে কাজে। 

হাওয়ায় হাওয়ায় কেবল দেখি রঙিন ওড়না ওড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

তবুও তো আসছি আমি  কেবল ছুটে ছুটে। 

আশার আলো জ্বালাই নদীর তটে তটে, 

সবজি বেঁচে পাহাড়ী মেয়ে গ্রামের হাটে হাটে। 

ওই তো দেখি হঠাৎ করে তোমার ছোট্ট কুঁড়ে। 





ডাক্তার কাজল কুমার

বগুলা, নদীয়া, 

১৭/৭/২০২৫












Thursday, July 10, 2025

কস্তুরী

💋💋 দীর্ঘকাল অনেক ভেবেচিন্তে মনে হল কস্তুরীই একমাত্র প্রকৃত জীবনসঙ্গিনী হতে পারে। আমার এই পূতিময় জীবনে সুগন্ধ এনে দিতে পারে কেবল কস্তুরী। আপনারা যদি জিজ্ঞাসা করেন কেন আমি কস্তুরীকে এত ভালোবাসি,কেনই বা ওকে এত পছন্দ করি ?প্রশ্নটা আসা স্বাভাবিক, আমি মূলত দুটি কারণেই ওকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে চাই। প্রথম কারণটা হলো, আমি যখন ওকে আমার বাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাই কোথাও তখন ও এমন ভাবে আমাকে জড়িয়ে লেপটে থাকে যেটা আমার খুবই পছন্দের। জাস্ট ভাবতে পারি না। ও এমন ভাবে আমাকে আগলে রাখে যে যমরাজ কেন যমরাজের পিতৃ দেব এসেও আমাকে কিছুই করতে পারবে না। ও নিজেকে পুরো মাত্রায় সমর্পিত করে আমাকে রক্ষা করে চলে। বর্তমানের যুগে যেটা একদমই অকল্পনীয়। 

আর দ্বিতীয় কারণটা ভারী অদ্ভুত এবং ভীষণই আমার পছন্দের। ধরুন আমি যখন কোন রেস্টুরেন্টে ওকে নিয়ে বিরিয়ানি খেতে যাই তখন খুবই মজার কান্ড ঘটে। কস্তুরী কখন যে এক প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ফেলে সেটা আমি বুঝতেই পারি না । জাস্ট টেরিফিক। আমি যখন হাফপ্লেট বিরিয়ানি খেতে গিয়ে দম বের করে ফেলি ও তখন আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। আমার প্লেটের অর্ধেকটার বেশি বিরিয়ানি খেয়ে ও আমাকে সাহায্য করে। এই জিনিসটা আমি খুবই পছন্দ করি। আর যার জন্য ওকে খুবই  শ্রদ্ধা করি। অতএব কস্তুরীই আমার ফাইনাল জীবনসঙ্গিনী । আপনাদের মতামত কি দয়া করে কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন। 👩👩

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী
বগুলা নদীয়া
১০/৭/২০২৫






Tuesday, July 1, 2025

সমান্তরালে

 ফেনায়িত ঢেউ গুনতে গুনতে

সূর্যাস্তের কাঁচা হলুদ আলোতে

একদিন হারিয়েছিলাম নিজেকে। 

চিরকালের বিষন্নতা ধুতে ধুতে

খালি পায়ে ঘুরে ছিলাম অনেকটা ঝাউয়ের বনে, 

একান্ত একাকী নিঃশব্দে আনমনে। 

ঘোড়ার পিঠে, উটের পিঠে ,মানুষের কোলাহলে

ভালো লাগার সুখ ছড়িয়েছিল কাজুবাদামের ফুলে ফুলে। 

হঠাৎই হাওয়ায় উড়তে উড়তে শর্বরী এসেছিল অজান্তে। 

বলেছিল "আরে দেবদাস! তুমি এখানে ? "

শর্বরীর সুখ- দুঃখের কথা শুনতে শুনতে

আমি একটা মস্ত কালো ঘোড়ার পিঠে চড়ে

কখন যে চলে এসেছিলাম অনেক দূরে। 

ও হারিয়েছিল নোনা অন্ধকারের বালু তটে। 

জানা ছিল না দেখা হবে কিনা কোনদিন আর। 

সংসারের হাল ধরা কিশোর সব বেলুন বিকিয়ে বাড়ি ফেরে। 

জীবনের শোক- তাপ মিশে যায় সমুদ্রের জলে। 

নির্জনতা এবং ব্যস্ততার মাঝে বয়ে যায় শান্তি স্রোত, 

শর্বরী কিংবা আমি বেঁচে থাকি কালের সমান্তরালে। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ

১/৭/২০২৫



Wednesday, June 25, 2025

হেতাল বনে

 গা ছমছম  হেতাল বন, 

মনের ভিতর উচাটন। 

ডোরাকাটা বাঘের ছাও

তোমরা যদি দেখতে পাও

তবেই ভিড়াই কাঠের নাও। 


হেতাল গাছের ভিতর থেকে

কি দেখা যায় খাড়ির বাঁকে? 

বাঘ নয় তো? নাকি অন্য কিছু? 

এগিয়ে চলো নৌকা পিছু, 

দেখতে পেলাম ভোঁদড় কিছু। 


এইরে! লাফ দিয়েছে বাঘের বাপ, 

ভয়ে পালায় দাড়াস সাপ। 

এক লাফেতেই  নদীর ওপার, 

মাখলো  কাদা, ভিজলো গতর

ভয়েই  থাকে নীথর চর। 


সুন্দর বনের কুমিরগুলো

অলস ভারি ,খাওয়ার নূলো। 

শুয়ে কাটায় খাড়ির চরে। 

চোখ বুজে রয় ঘাপটি মেরে

সুযোগ পেলেই কাঁকড়া ধরে। 


সুন্দরী ,গরান ,গেওয়া, মৌমাছি

এদের নিয়েই আমরা আছি। 

ওই দেখা যায় কুমিরমারি

মেঘে মেঘে আকাশ ভারি

একলা পথে বাপ হারানো ফুলকুমারী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া২৫/৬/২০২৫






Wednesday, June 18, 2025

হাসনুহানা

💮💮  এইতো সেদিন বললে" ভালোবাসি"

আবার আজকেই বললে" ভুল করেছি"

বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সেই তো আবার  জানালে দারুণভাবে হেরে গেছো তুমি। 

আমি তো দিয়েছিলাম তোমাকে একটি হাসনুহানা গাছ। 

তাতে বুঝি ফুল ফোটে নি একটাও? 

সুগন্ধিতে ভরিয়ে দেয় নি প্রাণ কখনো? 

 শান্তির ঘুম এনে দিয়েছে ছোট ছোট সাদা হাসনুহানা তোমাকে। 

আমাকে ভুলে গেলেও চলবে হাজারো ব্যস্ততায়। 

কিন্তু ভালোবাসো হাসনুহানাকে, 

আমিও তো চাই হাসনুহানাকে একান্তে। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

১৮/৬/২০২৫🥀🥀💮

Saturday, June 7, 2025

যেমন করে

 যেমন ফোটে আকাশমনি

যেমন ফোটে সাঝের তারা

যেমন ফোটে আতশবাজি

তেমনি ফুটুক শৈশব। 


যেমন হাসে চন্দ্রমুখী, 

যেমন হাসে রোদের ছটা, 

যেমন হাসে ফোকলা দাঁতী, 

তেমনি হাসুক কৈশোর। 


যেমন ছোটে কাজের মাসি, 

যেমন ছোটে অফিস বাবু, 

যেমন ছোটে হাওয়াই গাড়ি, 

তেমনি ছুটুক যৌবন। 


যেমন রাঙ্গায় পটের ছবি, 

যেমন রাঙায় অস্তরাগ, 

যেমন রাঙ্গায় পলাশ বিথী, 

তেমনি রাঙাক সুখের ঘর। 


যেমনি ঝরে শুকনো পাতা, 

যেমনি ঝরে উল্কা রাশি, 

যেমনি ঝরে পাহাড় ঝরা, 

তেমনি ঝরুক জীবন ভর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া

7/6/25








Saturday, May 31, 2025

চাকরি হারা

👩👩 সুখ -দুঃখের চৌরাস্তায়

বিন্দি পিসির ঘর। 

বেড়ার ঘরে সূর্য ঢোকে

জল পড়ে ঝর ঝর।। 


মুড়ি ভাজে বস্তা বস্তা

ভাইঝি পড়ায় নিজে। 

আশা নিয়ে বুক বেধেছে

চাকরি নেবে খুজেঁ।। 


বিন্দি পিসির ললাট চালে

মুড়ির কদর ভারী। 

ভাইঝি থাকে সাথে-পিঠে

লড়াই থাকে জারি।।। 


নয়ন পড়ে একা একাই

গরম টিনের চাল। 

ফড় ফড়িয়ে মুড়ি ফোটে

আগুন শিখা লাল। 


নয়ন যেদিন কলেজ গেল

পিসির চোখে জল। 

মনের ভিতর খুশির হাওয়া

হারিয়ে গেল বল।। 


নয়ন যায় মাস্টারি তে

চাকরি গেছে জুটে। 

স্কুলে তে ছাত্র নেই

ক্লাস ঘরে ঘুটে।। 


বছর ছয়েক পরে সেদিন

জানতে পারে নয়ন। 

চাকরিটা তার চলে গেছে

হারিয়ে গেল স্বপন।। 👩👩

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা পূর্ব পাড়া

নদীয়া। 

31/5/2025











Thursday, May 29, 2025

রঙিন ঘুড়ি

 আছে তোমার শান বাধানো বকুলতলা । 

সুগন্ধ বয়ে যায় সারাবেলা, 

আমার কিন্তু নেই অবকাশ সেখানে বসবার। 


তোমার আছে চৌকো ছাদ বাগান । 

রোদ আর হাসির লুটোপুটি চলে, 

আমার সামর্থ্য নেই উপরে উঠবার। 


কাঠগোলাপের শুভ্রতাও আছে তোমার। 

সারা উঠোন জুড়ে ছড়ানো ফুল, 

আমার কিন্তু ইচ্ছা নেই ওগুলো কুড়াবার। 


তোমার আছে ছোট্ট আরেকটি পুকুর। 

শালুক ফোটে, মাছরাঙ্গা এসে বসে, 

আমার কিন্তু খেয়াল নেই ফিরে তাকাবার। 


তোমার পৃথিবীতে যা যা আছে, 

সবই দামি এবং মোহ ময়। 

আমার কিন্তু নেই কিছু হারাবার। 


তোমার আছে সৌন্দর্য আর গলায় সুর। 

 সারা বাড়ি ঝরে পড়ে সুখ, 

আমার কিন্তু মন নেই গান গাইবার। 


তোমার বারান্দা আছে, বেতের চেয়ার ও রয়েছে

বিকেলে চায়ের উষ্ণতার ছোঁয়া লাগে, 

আমার কিন্তু ইচ্ছ নেই  চুমুক দেওয়ার। 


তোমার আছে হাজারো রঙিন স্বপ্ন । 

সদর দরজায় রঙিন বেগনভেলিয়া ঝুঁকে ঝুঁকে পড়ে, 

আমার কিন্তু নেই বাসনা ছুয়ে  দেখবার। 


তাহলে আমার আছেটা কি? 

আছে বিনি সুতোয় বাঁধা একটি রঙিন ঘুড়ি, 

কারণে-অকারণে যাকে ওড়াই সহস্র বার। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

29/5/2025




 



 








Friday, April 18, 2025

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে।

 ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে, পাতার পরে। 

গুড়ের নাড়ু গোল্লা পাকাই, সই ঠানদির রান্নাঘরে।

তালের সারি লম্বা ভারী, পুকুরটি চৌপল ,

আকাশ খানি হালকা হলো ,নিংড়ে সকল জল। 

সোনা মুগের ডাল, গাওয়া ঘি ,আলু লঙ্কা জিরে 

গন্ধ ছড়ায় খিচুড়িতে, খাচ্ছি শুধু চামচ  ভরে। 


ঘুম ভেঙ্গে যায় কোলা ব্যাঙের, ডাকতে থাকে জোরে, 

টুনটুনিটার  ভাঙলো বাসা ,বাচ্চারা সব গেল মরে। 

পাটকাটা, ধান ঝাড়া, রয়ে গেছে বাকি ,

টক ঝাল, আম মাখা, আমরা ছবি আঁকি ।

গরু গুলো দাঁড়িয়ে ভেজে, ওই দেখা যায় দূরে 

দিদিমা চলেন গুটি গুটি নাতির হাতটি ধরে। 


ওই যে আবার রোদের ঝিলিক চিকটিকিয়ে ওঠে 

খুশির হাওয়া ছুঁয়ে গেল রাঙা দিদির ঠোঁটে ।

নাড়ু গুলো ফুরিয়ে গেল ঠান্ডা হতে হতে ,

মিষ্টি যত হয়নি খাওয়া, দই রয়েছে পাতে ।

জল জমেছে খালে বিলে আর হলুদ ধানের মাঠে, 

গান ধরেছি আমরা সবাই বিছানা পাতা খাটে ।


রঙিন ছাতা, বাদাম ভাজা, কালো নুনের গুঁড়ো 

গাছের গোড়ায় আমের গুটি কেউ করেছে জড়ো 

তবলা বাজায় আপন ভুলে 

পুঁচকে ছোড়া ছন্দ তুলে। 

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে, ফোটায় বড় বড় -

বাঁধের পাড়ে গরিব মানুষ ভয়ে জড়োসড়ো। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ 

১৮/৪/২৫




Saturday, April 12, 2025

বসু বাড়ির দিদা

 👵👵একলা হাসে একলা গায়

বসু বাড়ির দিদা।

রোজ শনিতে মানত করে

গীতা পড়েন সদা।


কারো তেমন ধার ধারে না

দিনেই চলে ফেরে,

বুধ বারেতে ভাজবে লুচি

কাপড় জামা ছেড়ে।


পূজো -পার্বণ লেগেই থাকে

বিধি-নিষেধ কত,

তিন বেলাতে ঠাকুর সেবা

প্রসাদ কতো শত।


হাজারো লোক আসতে থাকে

যেমন খুশি খায়,

তারা আবার পোটলা বেঁধে

খাবার নিয়ে যায়।


দিদার ভীষণ দরাজ হাত

বিলিয়ে দিয়ে খুশি,

প্রনাম দিলে তবেই তাঁর

মুখে ফুটবে হাসি।


বসু বাড়ির তিনটে ছেলে 

কেউ থাকেনা বাড়ি।

উনিই একা পাহারাদার

সময় মাপে ঘড়ি।


কৃষ্ণ ঠাকুর, জপের মালা

সাধু ভক্তের ভোজ,


দিদা থাকেন একলা ঘরে

কেউ রাখেনা খোঁজ।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১১/০৪/২০২৫





Wednesday, April 9, 2025

তিতি

গঙ্গা পাড়ের সূর্য্যি যখন

ডুব দিয়েছে একা।

জল হয়েছে  সোনায় রাঙা

পটের ছবি আঁকা।


ময়না দিদি দেখতে থাকে 

সাঁঝের তারা ওঠে।

পাড়ার মাসি প্রনাম করে

জাহাজ থামে ঘাটে।


বাড়ির সারি দুই পাড়েতে

ঝল-মলানি আলো,

ঘুম পাড়ানি মিঠে হাওয়া

মন করেছে ভালো।


কত মানুষ নদীর ধারে

আপণ মনে বসে।

সুখ দুঃখের কতই কথা

বলছে মিলে মিশে।




নিজের মতে বিয়ে করেই

যেই হারালো তিতি।

খেয়া ঘাটেই মরণ হলো

কেউ দিলনা বাতি।


তিতির ছিল আকাশ জোড়া

বড় হবার মন,

এমনি করেই হারিয়ে গেল

দুঃখী মায়ের ধন।


নদীর বুকে জাগলো কত

বালি বোঝাই চর,

মাছ শুকালো জেলের দল

কেউ বেঁধেছে ঘর।


তিতির কথা কেউ বলেনা

সবাই গেছে ভুলে।

গাঙ্গের জলে বাণ এসেছে

নৌকা গেল খুলে।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া, পশ্চিম বঙ্গ।

৯/৪/২০২৫






 

Sunday, April 6, 2025

নুতন করে

 নুতন করে ভালবাসার কথা যদি

বলতে পারো আবার,

তবে স্নান সেরে আসি দামোদরের জলে।

জাগা বালু চরের কাশ ফুলের বনে

হারাবো আবার নিজেকে।

যত্ন করে এনে দিই

শাল পাতায় গরম জিলাবি।


জানি ভালোবাসার নুতন পুরাতন বলে কিছু নেই।

হৃদয় চাপা হাজারো হাহাকার,

অগুনতি খুশির ছোটো ছোটো কথা, 

নূতন করে বাঁচতে শেখে, বেরিয়ে আসে ভীড় পথে।

চোখ বেয়ে নামে খরস্রোতা জাহ্নবী।


পড়ে থাকা সাদা মহুয়া ফুলের গন্ধ মেখে

শাল পলাশের বনে ঘুরে ঘুরে ,

পুরাতনী গান গাই নুতনের সুরে।

প্রাণ ফিরে পায় রাগ ভৈরবী।


নুতন করে ভালোবাসি বললেই

জীবন ভেসে যায় দামোদরের নিষ্পাপ জলে।

ঝাউয়ের দোলায় ওড়না উড়ায় ,

কাছে ডেকে আনে অতি চেনা বাসবী।


নূতন করে যদি বলো ভালোবাসি আবার

তবে চোরা বালু  স্রোতে সাঁতার কাটি ,

উড়ে উড়ে খড় কুঁটো জোগাড় করি,

নূতন দিনের আলো শেষ হতে হতে

হাজার ফুল ফোটাক বিষাক্ত করবী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

৬/৪/২০২৫











Sunday, March 30, 2025

রাজার ভুঁড়ি

 বিচার চাই গো বিচার চাই 

রাজা বললো হেঁকে 

"আমার প্রজা মরছে কেন 

কোন অজানা  শোকে ? "


আমিই রাজা আমিই সব 

তবু প্রজা যাচ্ছে মারা।

বুঝতে আমি পারছি নাকো 

সুখ যেখানে ভরা। 


সঠিক কথা রাজা মশাই 

মড়ক এলো দেশে।

টাকার থলি সবই শেষ 

রোগ সারবে কিসে? 


হঠাৎ করে আকাশ থেকে 

নামলো সাদা পরী।

বললো "রাজার কেন 

মস্ত বড় ভুঁড়ি?"


ভুঁড়ির মধ্যে সব গিয়েছে

হীরে মানিক সোনা। 

টাকার কথা নাইবা বলি

শেষ হবেনা গোনা। 


প্রজার আরো করলে সেবা 

সবাই যাবে বেঁচে ।

রাজ্য জুড়ে বইবে খুশি 

উঠবে তারা নেচে।


বিচার কর নিজের আগে 

দেশের তুমি রাজা।

প্রজার হাতে তোমার বাঁচা 

তোমার যত মজা। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

২৯/৩/২৫















Saturday, March 22, 2025

শিব ঠাকুরের ঘর

বাড়ির পাশে চূর্ণী নদী 
আপন মনে বয়। 
দুই পারেতে সবুজ সারি 
সুখের কথা কয়। 

মেঘের ছবি জড়িয়ে বুকে
জল করেছে কালো। 
হাঁসের দলে সাঁতার কাটে 
শীত জড়ানো আলো। 

হাজার ঘাটে হাজার কথা 
নানা রকম কাজ। 
দুঃখের কথা কইতে মানা 
নামলে পরে সাঁঝ।

বাপ সোহাগী মেয়ের কথা 
তোমায় বলি শোনো। 
সোনার বালা খুঁজতে গিয়ে 
ঠাকুর খুঁজে পেলো। 

নদীর পাড়ে উলুর ধ্বনি 
রাখে ফুলের ডালা।
এক নিমেষে উঠলো গড়ে 
শিব ঠাকুরের চালা। 

কাঁচা হলুদ মাখলো গায়ে 
মেয়ের হলো বিয়ে।
আকাশ জুড়ে উড়তে থাকে 
সবুজ পাখি  টিয়ে ।

নতুন বউ নদীর মেয়ে 
কান্না ভেজা চোখে, 
বালু চরায় দাঁড়িয়ে পড়ে 
কেবল নদী দেখে ‌।


ঘাট পেরিয়ে  চললো মেয়ে 
সঙ্গে নিয়ে বর। 
নদীর পাড়ে রইল পড়ে 
শিব ঠাকুরের ঘর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 
বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 
২৩/৩/২০২৫






 

Wednesday, March 5, 2025

পলাশ

 পলাশ ফুটেছে বেদম বটে ,

তুই যাবি কিনা বল? 

সকল গাছের নীচে নীচে 

দেখছি মেয়ে মরদের ঢল। 


ফুল কুড়ায়ে তারা মাথায় দিচ্ছে, 

গলায় পরছে পলাশ মালা।

মিচকি মিচকি হাসছে দ্যাখো 

বন-বাদাড়ে খাচ্ছে দোলা।


তাড়াতাড়ি আয়না চলে 

তোকেও দিব রাঙ্গা ফুল। 

শাড়ি পেতে বসবো দুজন 

পরাই দিব কানের দুল।


লাল লেগেছে বনে বনে 

আনছে খুশি মনে। 

বাঁশি খানা বাজাই তবে 

মরদ নিবি চিনে।

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

৫/৩/২০২৫




 

Tuesday, February 18, 2025

কুসুম কুমারী হারিয়ে গেছে।

বিচিত্র এক ছায়া লোকে 

আমি চলেছিলাম  একান্তে নিঃশ্চুপে।

সেই তুলনায় তোমরা অনেক অনেক বেশি 

আত্মঘন দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্গমতা  অতিক্রম করছিলে

সুউচ্চ রঙিন কোলাহলে। 


আমার ছাদের টেরাকোটার টবে টবে 

অসংখ্য পিপুল লতার দল ,


একে বেঁকে এগিয়ে চলে আপন মনে,

আরো ঝকঝকে আলোর খোঁজে। 


আমি নিঃশব্দে বসে থাকি তারই কাছে ,

অতি বিশ্বস্ত একান্ত আপন সান্নিধ্যে। 

কিন্তু তোমরা নিস্তেজ আলোর নিশিতে, 

সুর চড়াচ্ছিলে ঝাঁঝালো মদিরাতে। 


বিমোচিত প্রেমে বিরহী মন,

নির্বাক প্রকৃতির আলিঙ্গনে 

আমি একাকি  স্বপ্ন মায়ায় শায়িত ।

তোমরা কিন্তু ভীষণই অশান্ত ফেনায়িত  ঢেউ ,

কালবৈশাখী ঝড়ের মত দুরন্ত।


আর এই মোহ চক্রেই হারিয়ে গেছে 

ভালোবাসার মানুষ তোমাদের ভিড়ে। 

দিন পাল্টানোর আন্দোলনের হাতছানিতে 

শহরের রাজ পথে পথে সে শত শত মানুষের 

দুঃখ খোঁজে, চোখের জল মোছে।


আমি যেরকম ছিলাম, ঠিক তেমনিই আছি 

অজানা পথে পথে, একলা ঘুরে ঘুরে বাঁচি ।

ভালো থাকুক কুসুমকুমারী ,

বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন। জীবন রেখেছি বাজি।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১৮/২/২০২৫








 


Thursday, February 6, 2025

নীল কন্ঠ

🐦🐦 যে পাখি ডাক দিয়ে ফেরে,তাকে ডাকলে নাতো তুমি।

ফেলে গেছে সে নীল পালক খানি ,যা সবার চেয়ে দামি।।


মন যেখানে ডুব দিয়েছে, তাকে কই রেখেছো খোঁজ।

শিস দিয়ে যায় বনের পাখি ,ভোরের বেলা রোজ।।


ওই বনেতে একলা ঘুরে,  হঠাৎ পথ হারালে যেই।

ভাসিয়ে ডানা ডাকলো তোমায় , আঁখি কালো বন্ধু সেই।।


যখন ভুবন ভুলে গাইছিলে সুখ জড়ানো এক গান।

নরম পালক হারিয়ে দিলে , নীল কন্ঠ করলো দেখো মান।।


কোথায় যেন মুখ লুকিয়ে চুপি,  সে একা মন করেছে দুখী ।

উথাল পাথাল বাউল বাতাস,পাতা ঝরায় বনের যত শাখি।


নীল আকাশে ওই দেখা যায় ছোট্ট নীলচে ডানা দুটি।

সাথী তোমার উদাস দিনের, যে সোনার থেকেও খাঁটি।।🐦🐦


DR. KAJAL KUMAR BAKSHI

BAGULA ,NADIA ,WB ,741502

06/2/2025






তোমার কাছে

🎕🎕  তোমার কাছে বসবো নাতো আর, এই কথাটাই বলছি বারং বার। আমের মুকুল যতই পড়ুক ঝরে-- যতই হানো কঠিন তিরস্কার।              তোমার কাছে বসবো নাতো ...