ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে, পাতার পরে।
গুড়ের নাড়ু গোল্লা পাকাই, সই ঠানদির রান্নাঘরে।
তালের সারি লম্বা ভারী, পুকুরটি চৌপল ,
আকাশ খানি হালকা হলো ,নিংড়ে সকল জল।
সোনা মুগের ডাল, গাওয়া ঘি ,আলু লঙ্কা জিরে
গন্ধ ছড়ায় খিচুড়িতে, খাচ্ছি শুধু চামচ ভরে।
ঘুম ভেঙ্গে যায় কোলা ব্যাঙের, ডাকতে থাকে জোরে,
টুনটুনিটার ভাঙলো বাসা ,বাচ্চারা সব গেল মরে।
পাটকাটা, ধান ঝাড়া, রয়ে গেছে বাকি ,
টক ঝাল, আম মাখা, আমরা ছবি আঁকি ।
গরু গুলো দাঁড়িয়ে ভেজে, ওই দেখা যায় দূরে
দিদিমা চলেন গুটি গুটি নাতির হাতটি ধরে।
ওই যে আবার রোদের ঝিলিক চিকটিকিয়ে ওঠে
খুশির হাওয়া ছুঁয়ে গেল রাঙা দিদির ঠোঁটে ।
নাড়ু গুলো ফুরিয়ে গেল ঠান্ডা হতে হতে ,
মিষ্টি যত হয়নি খাওয়া, দই রয়েছে পাতে ।
জল জমেছে খালে বিলে আর হলুদ ধানের মাঠে,
গান ধরেছি আমরা সবাই বিছানা পাতা খাটে ।
রঙিন ছাতা, বাদাম ভাজা, কালো নুনের গুঁড়ো
গাছের গোড়ায় আমের গুটি কেউ করেছে জড়ো
তবলা বাজায় আপন ভুলে
পুঁচকে ছোড়া ছন্দ তুলে।
ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে, ফোটায় বড় বড় -
বাঁধের পাড়ে গরিব মানুষ ভয়ে জড়োসড়ো।
ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ
১৮/৪/২৫

No comments:
Post a Comment