Followers

Friday, August 7, 2026

চটি চাটা

 নমস্কার ডাক্তার বাবু, বলছি এখানে কি হাঁস- মুরগির ওষুধ দেওয়া হয়?

-- না-না, দেওয়া হয় না।

পরের দিন আরেক জন।

--আচ্ছা ডাক্তার বাবু , এখানে কি গরু-ছাগলের ওষুধ দেওয়া হয়? কয়দিন দেখছি  আমার গাঁইটার বাট ফুলেছে। দুধ দোয়াতে পারছি না।

--না-না, এখানে গরু ছাগলের ওষুধ দেওয়া হয়না। শুধু মাত্র মানুষের জন্য ওষূধ দেওয়া হয়।

--তার পরের দিন আরেক জন।

-- নমস্কার ডাক্তার বাবু , বলছি এখানে কি কোনো চটি চাটার ওষুধ দেওয়া হয়?

-- হ্যা দেওয়া হয়।

-- বলেন কি ডাক্তার বাবু ! এ তো বিশাল ব্যাপার, আমি কি একটু ভিতরে আসতে পারি?

-- আসুন। 

-- বলছি চটি চাটারদের অসুবিধা কি? মানে কি কি রোগ হয়?

---কি আর হবে, ওই চটি চাটতে চাটতে জিব ফুলে যায়, অনেক সময় লালা বেরিয়ে আসে । চটি না চাটতে পারলে ভালো লাগেনা, রাত্রে ঘুম হয় না।  খাওয়া -দাওয়া ভুলে যায়।

--- এ তো দেখছি অনেক অসুবিধা! 

-- আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলবেন কি ওষুধ দেন আপনি?

--- কি আর ওষুধ, চটি চাটা ৩০ খাওয়ালেই সব ঠিক হয়ে যায়।

--তাই নাকি! তাহলে দয়া করে আমাকে একটু চটি চাটা ৩০ এক শিশি ওষুধ দেন ।আমার ঠিক ওই রোগ গুলিই  হয়েছে।

--তাই নাকি? ঠিক আছে দিচ্ছি।

--- লোকটি সঙ্গে সঙ্গে বিশাল হা করে দুই ফোঁটা ওষূধ খেয়ে  নিলেন। এবং নিজের গাছের চারটি পাতি লেবু দিয়ে বললেন " দারুন ওষুধ দিয়েছেন ডাক্তার বাবু, নেবু গুলো গরম ডালের সঙ্গে খাবেন ভালো লাগবে।"

 আমি ভাবলাম , চটি চাটাদের রোগ মুক্তি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই সমাজের মঙ্গল।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নাদিয়া, 

৭/৮/২০২৬





--


Sunday, July 19, 2026

বর্ষা



 

এই  চেনা পোড়া শহরটা  উথাল-পাথাল হলে

বর্ষার  ভ্রুক্ষেপ থাকেনা  কোনো ক্ষণে।


সে উদ্দাম আনাবিল আনন্দে মাথা ভাঙ্গায়, চূর্নীতে

জল ছেটানোর খেলায় মেতে ওঠে খেয়াল খুশিতে।


যে বৃষ্টি সিক্ত সুখ বয়ে আনে মনের কোণাতে,

তৃষ্ণা মিটায়  যৌবন বতী হওয়া পদ্ম  বিলেতে।


শহর থেকে গঞ্জের জটিল আবর্তের ঘুরপাকে,

সেই স্রোত ধারা মেশে চেনা নদীটার বাঁকে।   


একাকী বৃদ্ধের মোটা চশমায় সব ঢাকা পড়ে ,

একদিন তাঁরাও ভিজেছিল  অনেক ,হাত ধরে ধরে।                                                                                              


হীরক কূচীর মতো জলের বিন্দু  মুখে নিয়ে বাড়ী ফেরে

কিশোরীর দল ,গ্রামের সবুজ আঁকা-বাঁকা পথ ধরে।


বর্ষা তখন আশ্রয় খোঁজে চূর্নীর খোলা বুকের মাঝে,

দূর   থেকে ওই শোনা যায় তারই মধুর ধ্বনি  বাজে।       


ডাঃ কাজল                 কুমার বক্সী

বগুলা,নদিয়া,

kkbakshi007@gmail.com                                                                 

20/07/2026







Tuesday, July 7, 2026

ঘর বেঁধেছি

এই নদী তুই কেমন করে বইতে থাকিস!
রোজই দেখি একটা করে গল্প বলিস।

বটের ছায়ায় ওই যে দেখি পাথর সিঁড়ির ঘাট,
হাজার মানুষ নাইতে আসে ধন্য হলো পাট।

নিত্য -নতুন কষ্ট নিয়ে একলা চলিস ,
তোকেই নিয়ে কত মানুষ করছে নালিশ।

তোরই সাথে ঘর বেঁধেছি বলতে পারিস,
দুঃখ -সুখে থাকবো মিলে এইটা জানিস।

বালির চরায়  হারিয়ে গেছে মনের মানুষ,
আগুন জ্বেলে উড়িয়ে দিলাম রঙ্গিন ফানুস।



ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদিয়া,
৭/৭/২০২৬







Saturday, May 30, 2026

নদীটির জীবনের জন্য

 তুমি কি আমার নদীটাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? 

কতদিন কতবার তুমি বলেছ ক্লান্ত দিনের শেষে, 

"চলনা একটু নদীটার পাড়ে গিয়ে বসি,  গল্প করি, হালকা করি মন টাকে। "

সেসব কথা না হয় ভুলেই গেছো, 

কিন্তু নদীটা তো আর সেই নদী নেই, 

তোমাকে প্রায়ই দেখি নদীতে প্রদীপ ভাসাও

ঝুড়ি ভর্তি বেল ফুল পাতা ফেলে আসো জলে, 

কত রকমের নোংরা ছুড়ে ছুড়ে দাও।

সেই জন্য বোধহয় আর শান্ত জল ধারা দেখিনা। 

কতবার বলেছ এই নদীটা কে বাঁচিয়ে রাখবে তুমি, 

সারা জীবন পাড়ে পাড়ে হাত ধরে হাঁটবে একসাথে। 

 অতি চেনা নদী আজ শবের মতো একাকী শুয়ে।

তুমি তো আর প্রদীপ ভাসাতে পারবে না! 

জানি তোমার এত কিছু ভাবার সময় নেই, 

তবুও আমার কথা ভেবেই নদীটাকে আজও

বাঁচিয়ে রাখা যেত ভালোভাবেই। 

তাহলে আমাদের জীবন দুটো পাশাপাশি মিলেমিশে চলতো  । 

সাগরের সুবিশাল জলস্রোতে হারাতো একদিন হয়তো। 

তাই না? 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা নদীয়া

৩০/৫/২৬




 




Saturday, May 2, 2026

এই দেশে

চলো চলো ওই দূরে

ঘুরে ঘুরে পথ চিনে। 

ধান ক্ষেত পাশে রেখে

ঢুকে পড়ি কাশ বনে। 


খাল বিল লাফ দিয়ে

এসে পড়ো নদী পাড়ে। 

কালো জলে চাঁদ ভাসে

গান গাও মন ভরে। 


সারি সারি কত গাছ

খোঁজো ফেরো আনমনে

ঝরে পড়ে বুনোফুল

সব সুখ এই খানে । 


এসো এসো দেখো দেখো

কত বক মাঠে ঘোরে। 

তিল ফুলে মধু মাছি

গুন গুন গান করে। 


ছুটে ছুটে আর কত

বনে বনে লুকোচুরি। 

একসাথে বাড়ি ফিরি

হয়ে যায় মন ভারী। 


চলো চলো তাড়াতাড়ি

সাঁকো দিয়ে হাঁটাহাঁটি। 

বাঁশ গাছে ঘুঘু ডাকে

পাড়া খানা পরিপাটি। 


চলো যাই ওই দূরে

পায়ে মাখি রাঙামাটি। 

মনে মনে ভারি খুশি

এই দেশে সব খাঁটি। 



 ডা : কাজল কুমার বক্সী, বগুলা, নদীয়া 

২/৫/২০২৬











 

Wednesday, April 1, 2026

গিরগিটি

গিরগিটি


ডাঃকাজল কুমার বক্সী

👨👨নানাভাবে ভালোবাসতে বাসতে তোমাকে ----
একটা গিরগিটি বনে গেলাম বেমালুম।
ফেরিওয়ালা থেকে গ্রামের মাস্টার মশাই,
আবার মাস্টার মশাই থেকে এল,আই,সি এজেন্ট।
কত কিছুইনা হয়েছি এই ছোট্ট ভাঙ্গা চোরা জীবনে,
তবুও তুমি কাম রাঙ্গা বউ, জলে ভাসা পদ্ম রাণী।


আমার নানান রঙের বৈচিত্রের মুগ্ধতায়
 তোমার আলু পরোটা আর হলদে ঘুঘনির বাঁটি
আমাকে বহুরুপী সাজতে ভালো লাগে দিনের পর দিন।
পরতে পরতে চমক আর রঙ বাহারি খেলা,
বাড়তি টাকায় কেনা ঝুমকো পরে হাসলেই
গিরগিটি খাবার ধরে,ধন্য তুমি জানি।


আমি বদলে যেতে পারি আবার লুকিয়েও যেতে পারি।
সারাদিন ছোটা-ছুটি আর সংসার বাচিয়ে রাখার প্রতিযোগিতা'।
রঙ বদলে যায় বারে বারে ,মনের থেকে সারা শরীরে,
কাঁটা গাছের ডালে ডালে অবাদ বিচরণের আনন্দে 
আমার মতো গির গিটির  সমস্ত ভালোবাসা সত্য বলে মানি।।👨👨


বগুলা, নদিয়া,
১/৪/২০২৬






Monday, March 23, 2026

সম্বল

👧👧 আমার কিছুই নেই তোমাকে দেওয়ার মত--

সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক

কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল,

নিলেও নিয়ে যেতে পারো ,সারাও তোমার ক্ষত।


চলে যাওয়াটা আজকাল দুই পয়সার বেলুন।

একটা মাত্র শব্দ, তারপরেই হাওয়ায় হারিয়ে যাওয়া।

আবার একটা সংসার, একদম নতুন।


বৃদ্ধ বাবা ভুল বকে সারাদিন কেবল--

"খোকা, ভালো করে সংসারটা করিস গুছিয়ে।

নাতিটাকে দেখিস, ওইই আমাদের একমাত্র সম্বল।"👱👱




বগুলা, নদিয়া,

২৩/৩/২০২৬








চটি চাটা

 নমস্কার ডাক্তার বাবু, বলছি এখানে কি হাঁস- মুরগির ওষুধ দেওয়া হয়? -- না-না, দেওয়া হয় না। পরের দিন আরেক জন। --আচ্ছা ডাক্তার বাবু , এখানে কি গর...