Followers

Thursday, October 8, 2026

তোমাকে বলা হয়নি আজও যে কথা

হাজারো মানুষের দুঃখ কথা শুনতে শুনতে
আমার কালশীটে পড়া আট পৌরে বেদনার আলেখ্য
তোমাকে বলা হয়নি কখনো।

প্রকৃতির  অমোঘ নিয়ম ছন্দে
বড় বড় দুঃখের যাঁতা কলে
নিজের হাঁ-হুতাশ পিষে মরে অজান্তে।

এক চিলতে ভাঙ্গা ঘরের দরজা দমকা হাওয়ায় খুলে গেলে
সার বেধে শীর্তাত মানুষের দল ঢুকে পড়ে
সকালের  তাপ জড়ানো আলোর খোঁজে ।


মনো বেদনার শির শিরানি হাওয়ার ঢেউ
চিরকাল হলুদ পাতা ঝরায় জঙ্গলে জঙ্গলে। 
অকালের বৃষ্টি নামায় শহরের কানা গলিতে গলিতে।

কাঁঠাল চাঁপা ফুল গাছটা সবে একটু একটু করে
আনন্দে সুবাস ছড়াতে শুরু করেছে আনমনে
রাতের শিঁউলিও কম যায় না।

এমন সময় দুঃখরা দল বেধে চাঁদা তুলে 
আনন্দের পিকনিকে মেতে ওঠে 
সে কথাতো তোমাকে বলা হয়নি আজও।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা , নদিয়া,
৮.১০.২০২৬


Sunday, September 13, 2026

তিন সত্যি

          বলেছিলে তিন সত্যির ভালোবাসা দেবে আমাকে,

তার পরেই পড়ন্ত বিকেলের আলো মুছে

হঠাৎই হারালে কোথাও।


পান কৌড়ির ডুব সাঁতারে কোন অতলের

পাতাল পূরীর খোঁজ পেলে তুমি------

তিন সত্যির মানে হলো কি?


সদর দরজা দিয়ে হেমন্তের কাশ ফুল বয়ে এনে

পিছন দরজার তালা ভেঙ্গে পালিয়ে কোথায় বাঁচলে?

তিন সত্যির মোহে এখনো প্রেমিকারা পথ ভোলে।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদিয়া,

১৩/৯/২৬







Sunday, August 16, 2026

আলতা পায়ে পায়ে

তোমার শান্ত কথায় ঝুমকো লতা দোলে, 

বৃষ্টি ঝরানো আকাশে সন্ধা তারারা মিট মিটিয়ে জ্বলে। 

হাজার শব্দ মালার ফুল ঝুরিতে গন্ধরাজ লেবুর সুবাস ছড়ায়। 

তবুও হঠাৎ একদিন সমস্ত বাড়িতে শব্দহীনতার ছায়া পড়ে। 

শীর্তাত  বোবা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চৌকাঠ থেকে অলি - গলি । 

রাজপথ কেড়ে নিয়ে গেছে  স্বামী সন্তান নিমেষে বহুকাল আগে। 

দিনের পর দিন কথা জমে জমে সাদা বরফ কুচির মত বাতাসে ভাসে। 

ঝুমকো লতার থোকা থোকা ফুলগুলো আজও তোমার স্পর্শহীনতায় দোলে।

সারা জীবন অনেক কথা বলবে বলেই এই বাড়িটাতে আসা আলতা পায়ে। 

ছোট থেকে বড় হওয়ার নানান গল্প  বলা বাকি  এখনো--

কথা হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসে কি রাঙতা মোড়া হয়ে নতুন কোন সোনালী রোদের সকালে? 

বিস্তৃত নীল আকাশটাই যাদের উঠোন বাড়ি

অব্যক্ত কথার উল্কা খসার রাতে তারা কেউ ফিরে আসে না, আলতা পায়ে পায়ে। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া, 

১৬/৮/২০২৬





Friday, August 14, 2026

দেশ প্রেম

 শিব প্রসাদ দেশকে ভালোবাসতো।মানুষকেও ভালোবাসতো একই ছন্দে। আর ভালোবাসতো বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে। কিন্তু নিষ্টার সঙ্গে মাষ্টার ডিগ্রি করেও যখন সে একটা চাকরি পেলোনা তখন শিবপ্রাসাদ দেশের প্রতি একটু  নিরাশ হলো। মানুষদেরও অত বেশী বিশ্বাস করতে পারছিলনা। তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও অমনোযোগী হতে শুরু করলো।

নিজের জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে মনের ভিতর নানা দ্বন্দের দোলাচলে সে একদিন বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়োলো। হারিয়ে গেল কোথাও। সবাই বলতে শুরু করলো " ছেলেটা কি ভালোছিলো আর কি হয়ে গেলো।

শিব প্রসাদের বেচে থাকার  ও অর্থ উপার্জনের লড়াই শুরু হলো। সে অনেক চেষ্টা করে একটা টিউশানি জোগাড় করলো প্রথমে। ছাত্র পড়াতে গিয়ে সেও আরো পড়তে শুরু করলো।

একটা দুটো করে দিনে দিনে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়োতে থাকলো।   দুই তিন বছর ঘুরতে না ঘুরতে তার পড়ানোর ব্যাপ্তি  ছড়িয়ে পড়লো। শিবিপ্রসাদ অচিরেই এক জন খ্যাতনামা শিক্ষক হয়ে উঠলো। অর্থ   নৈতিক ভাবে স্বচ্ছল ও আত্ম বিশ্বাসী নাগরিক সে একজন। শিবপ্রসাদ আবারো দেশকে ভালোবাসে আগের মতো। মানুষের পাশে দাঁড়ায় আপদে-বিপদে। বাড়ির সদস্য দের জন্য দায়িত্ব পালনে পিছপা হয় না কখনো।

১৫ই আগষ্ট সে একটা জাতীয় পতাকা কিনে বাড়ীর ছাদে উড়িয়ে       বলতে থাকলো


"মেরা দেশ মহান, ম্যায় খোদ হঙ্গে মহান। ১৫ আগষ্ট জিন্দাবাদ , বন্দে মাতরম।  

ডা:   কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদিয়া, 

14/8/2026



Friday, August 7, 2026

চটি চাটা

 নমস্কার ডাক্তার বাবু, বলছি এখানে কি হাঁস- মুরগির ওষুধ দেওয়া হয়?

-- না-না, দেওয়া হয় না।

পরের দিন আরেক জন।

--আচ্ছা ডাক্তার বাবু , এখানে কি গরু-ছাগলের ওষুধ দেওয়া হয়? কয়দিন দেখছি  আমার গাঁইটার বাট ফুলেছে। দুধ দোয়াতে পারছি না।

--না-না, এখানে গরু ছাগলের ওষুধ দেওয়া হয়না। শুধু মাত্র মানুষের জন্য ওষূধ দেওয়া হয়।

--তার পরের দিন আরেক জন।

-- নমস্কার ডাক্তার বাবু , বলছি এখানে কি কোনো চটি চাটার ওষুধ দেওয়া হয়?

-- হ্যা দেওয়া হয়।

-- বলেন কি ডাক্তার বাবু ! এ তো বিশাল ব্যাপার, আমি কি একটু ভিতরে আসতে পারি?

-- আসুন। 

-- বলছি চটি চাটারদের অসুবিধা কি? মানে কি কি রোগ হয়?

---কি আর হবে, ওই চটি চাটতে চাটতে জিব ফুলে যায়, অনেক সময় লালা বেরিয়ে আসে । চটি না চাটতে পারলে ভালো লাগেনা, রাত্রে ঘুম হয় না।  খাওয়া -দাওয়া ভুলে যায়।

--- এ তো দেখছি অনেক অসুবিধা! 

-- আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে বলবেন কি ওষুধ দেন আপনি?

--- কি আর ওষুধ, চটি চাটা ৩০ খাওয়ালেই সব ঠিক হয়ে যায়।

--তাই নাকি! তাহলে দয়া করে আমাকে একটু চটি চাটা ৩০ এক শিশি ওষুধ দেন ।আমার ঠিক ওই রোগ গুলিই  হয়েছে।

--তাই নাকি? ঠিক আছে দিচ্ছি।

--- লোকটি সঙ্গে সঙ্গে বিশাল হা করে দুই ফোঁটা ওষূধ খেয়ে  নিলেন। এবং নিজের গাছের চারটি পাতি লেবু দিয়ে বললেন " দারুন ওষুধ দিয়েছেন ডাক্তার বাবু, নেবু গুলো গরম ডালের সঙ্গে খাবেন ভালো লাগবে।"

 আমি ভাবলাম , চটি চাটাদের রোগ মুক্তি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই সমাজের মঙ্গল।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নাদিয়া, 

৭/৮/২০২৬





--


Sunday, July 19, 2026

বর্ষা



 

এই  চেনা পোড়া শহরটা  উথাল-পাথাল হলে

বর্ষার  ভ্রুক্ষেপ থাকেনা  কোনো ক্ষণে।


সে উদ্দাম আনাবিল আনন্দে মাথা ভাঙ্গায়, চূর্নীতে

জল ছেটানোর খেলায় মেতে ওঠে খেয়াল খুশিতে।


যে বৃষ্টি সিক্ত সুখ বয়ে আনে মনের কোণাতে,

তৃষ্ণা মিটায়  যৌবন বতী হওয়া পদ্ম  বিলেতে।


শহর থেকে গঞ্জের জটিল আবর্তের ঘুরপাকে,

সেই স্রোত ধারা মেশে চেনা নদীটার বাঁকে।   


একাকী বৃদ্ধের মোটা চশমায় সব ঢাকা পড়ে ,

একদিন তাঁরাও ভিজেছিল  অনেক ,হাত ধরে ধরে।                                                                                              


হীরক কূচীর মতো জলের বিন্দু  মুখে নিয়ে বাড়ী ফেরে

কিশোরীর দল ,গ্রামের সবুজ আঁকা-বাঁকা পথ ধরে।


বর্ষা তখন আশ্রয় খোঁজে চূর্নীর খোলা বুকের মাঝে,

দূর   থেকে ওই শোনা যায় তারই মধুর ধ্বনি  বাজে।       


ডাঃ কাজল                 কুমার বক্সী

বগুলা,নদিয়া,

kkbakshi007@gmail.com                                                                 

20/07/2026







Tuesday, July 7, 2026

ঘর বেঁধেছি

এই নদী তুই কেমন করে বইতে থাকিস!
রোজই দেখি একটা করে গল্প বলিস।

বটের ছায়ায় ওই যে দেখি পাথর সিঁড়ির ঘাট,
হাজার মানুষ নাইতে আসে ধন্য হলো পাট।

নিত্য -নতুন কষ্ট নিয়ে একলা চলিস ,
তোকেই নিয়ে কত মানুষ করছে নালিশ।

তোরই সাথে ঘর বেঁধেছি বলতে পারিস,
দুঃখ -সুখে থাকবো মিলে এইটা জানিস।

বালির চরায়  হারিয়ে গেছে মনের মানুষ,
আগুন জ্বেলে উড়িয়ে দিলাম রঙ্গিন ফানুস।



ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদিয়া,
৭/৭/২০২৬







তোমাকে বলা হয়নি আজও যে কথা

হাজারো মানুষের দুঃখ কথা শুনতে শুনতে আমার কালশীটে পড়া আট পৌরে বেদনার আলেখ্য তোমাকে বলা হয়নি কখনো। প্রকৃতির  অমোঘ নিয়ম ছন্দে বড় বড় দুঃখের যাঁত...