Thursday, July 17, 2025

যেতে বললে

 যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

কুয়াশার চাদর সরিয়ে, রাস্তা খুঁজে খুঁজে

পাহাড়ের গায়ে ভাসা ভাসা মেঘ ছুঁয়ে ছুঁয়ে

ঝুম চাষের সবুজ দুই হাতে নিয়ে নিয়ে

তবেই তো বসা যায় চেনা নদীটির পাড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

ছবি তুলে তুলে ,হাতির পিঠে দুলে দুলে

তোমাকে না হয় ভুলেই যাব হঠাৎ পলে পলে। 

রোদের ছটায় হাসুক পাহাড় আকাশ নীলে নীলে। 

দলে দলে প্রজাপতি খেয়াল খুশি ওড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

চায়ের পাতায় বৃষ্টি পড়ে সোহাগ দিয়ে দিয়ে। 

হারাই যদি উল্টো পথে বনের ছায়ে ছায়ে

ময়ূর পালক কুড়িয়ে নেবো, চলবো পায়ে পায়ে। 

তোমাকে না হয় খুঁজবো তখন হাজার লোকের ভিড়ে। 


যেতে বললে তো আর যাওয়া যায় না। 

কত রকম পাখি ডাকে বনের মাঝে মাঝে, 

সারা সকাল ব্যস্ত থাকে কেবল নিজে নিজে। 

তুমি না হয় ভুলেই থেকো হাজার কাজে কাজে। 

হাওয়ায় হাওয়ায় কেবল দেখি রঙিন ওড়না ওড়ে। 


যেতে বললেই তো আর যাওয়া যায় না। 

তবুও তো আসছি আমি  কেবল ছুটে ছুটে। 

আশার আলো জ্বালাই নদীর তটে তটে, 

সবজি বেঁচে পাহাড়ী মেয়ে গ্রামের হাটে হাটে। 

ওই তো দেখি হঠাৎ করে তোমার ছোট্ট কুঁড়ে। 





ডাক্তার কাজল কুমার

বগুলা, নদীয়া, 

১৭/৭/২০২৫












Thursday, July 10, 2025

কস্তুরী

💋💋 দীর্ঘকাল অনেক ভেবেচিন্তে মনে হল কস্তুরীই একমাত্র প্রকৃত জীবনসঙ্গিনী হতে পারে। আমার এই পূতিময় জীবনে সুগন্ধ এনে দিতে পারে কেবল কস্তুরী। আপনারা যদি জিজ্ঞাসা করেন কেন আমি কস্তুরীকে এত ভালোবাসি,কেনই বা ওকে এত পছন্দ করি ?প্রশ্নটা আসা স্বাভাবিক, আমি মূলত দুটি কারণেই ওকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেতে চাই। প্রথম কারণটা হলো, আমি যখন ওকে আমার বাইকে চাপিয়ে নিয়ে যাই কোথাও তখন ও এমন ভাবে আমাকে জড়িয়ে লেপটে থাকে যেটা আমার খুবই পছন্দের। জাস্ট ভাবতে পারি না। ও এমন ভাবে আমাকে আগলে রাখে যে যমরাজ কেন যমরাজের পিতৃ দেব এসেও আমাকে কিছুই করতে পারবে না। ও নিজেকে পুরো মাত্রায় সমর্পিত করে আমাকে রক্ষা করে চলে। বর্তমানের যুগে যেটা একদমই অকল্পনীয়। 

আর দ্বিতীয় কারণটা ভারী অদ্ভুত এবং ভীষণই আমার পছন্দের। ধরুন আমি যখন কোন রেস্টুরেন্টে ওকে নিয়ে বিরিয়ানি খেতে যাই তখন খুবই মজার কান্ড ঘটে। কস্তুরী কখন যে এক প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ফেলে সেটা আমি বুঝতেই পারি না । জাস্ট টেরিফিক। আমি যখন হাফপ্লেট বিরিয়ানি খেতে গিয়ে দম বের করে ফেলি ও তখন আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। আমার প্লেটের অর্ধেকটার বেশি বিরিয়ানি খেয়ে ও আমাকে সাহায্য করে। এই জিনিসটা আমি খুবই পছন্দ করি। আর যার জন্য ওকে খুবই  শ্রদ্ধা করি। অতএব কস্তুরীই আমার ফাইনাল জীবনসঙ্গিনী । আপনাদের মতামত কি দয়া করে কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন। 👩👩

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী
বগুলা নদীয়া
১০/৭/২০২৫






Tuesday, July 1, 2025

সমান্তরালে

 ফেনায়িত ঢেউ গুনতে গুনতে

সূর্যাস্তের কাঁচা হলুদ আলোতে

একদিন হারিয়েছিলাম নিজেকে। 

চিরকালের বিষন্নতা ধুতে ধুতে

খালি পায়ে ঘুরে ছিলাম অনেকটা ঝাউয়ের বনে, 

একান্ত একাকী নিঃশব্দে আনমনে। 

ঘোড়ার পিঠে, উটের পিঠে ,মানুষের কোলাহলে

ভালো লাগার সুখ ছড়িয়েছিল কাজুবাদামের ফুলে ফুলে। 

হঠাৎই হাওয়ায় উড়তে উড়তে শর্বরী এসেছিল অজান্তে। 

বলেছিল "আরে দেবদাস! তুমি এখানে ? "

শর্বরীর সুখ- দুঃখের কথা শুনতে শুনতে

আমি একটা মস্ত কালো ঘোড়ার পিঠে চড়ে

কখন যে চলে এসেছিলাম অনেক দূরে। 

ও হারিয়েছিল নোনা অন্ধকারের বালু তটে। 

জানা ছিল না দেখা হবে কিনা কোনদিন আর। 

সংসারের হাল ধরা কিশোর সব বেলুন বিকিয়ে বাড়ি ফেরে। 

জীবনের শোক- তাপ মিশে যায় সমুদ্রের জলে। 

নির্জনতা এবং ব্যস্ততার মাঝে বয়ে যায় শান্তি স্রোত, 

শর্বরী কিংবা আমি বেঁচে থাকি কালের সমান্তরালে। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ

১/৭/২০২৫



Wednesday, June 25, 2025

হেতাল বনে

 গা ছমছম  হেতাল বন, 

মনের ভিতর উচাটন। 

ডোরাকাটা বাঘের ছাও

তোমরা যদি দেখতে পাও

তবেই ভিড়াই কাঠের নাও। 


হেতাল গাছের ভিতর থেকে

কি দেখা যায় খাড়ির বাঁকে? 

বাঘ নয় তো? নাকি অন্য কিছু? 

এগিয়ে চলো নৌকা পিছু, 

দেখতে পেলাম ভোঁদড় কিছু। 


এইরে! লাফ দিয়েছে বাঘের বাপ, 

ভয়ে পালায় দাড়াস সাপ। 

এক লাফেতেই  নদীর ওপার, 

মাখলো  কাদা, ভিজলো গতর

ভয়েই  থাকে নীথর চর। 


সুন্দর বনের কুমিরগুলো

অলস ভারি ,খাওয়ার নূলো। 

শুয়ে কাটায় খাড়ির চরে। 

চোখ বুজে রয় ঘাপটি মেরে

সুযোগ পেলেই কাঁকড়া ধরে। 


সুন্দরী ,গরান ,গেওয়া, মৌমাছি

এদের নিয়েই আমরা আছি। 

ওই দেখা যায় কুমিরমারি

মেঘে মেঘে আকাশ ভারি

একলা পথে বাপ হারানো ফুলকুমারী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া২৫/৬/২০২৫






Wednesday, June 18, 2025

হাসনুহানা

💮💮  এইতো সেদিন বললে" ভালোবাসি"

আবার আজকেই বললে" ভুল করেছি"

বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সেই তো আবার  জানালে দারুণভাবে হেরে গেছো তুমি। 

আমি তো দিয়েছিলাম তোমাকে একটি হাসনুহানা গাছ। 

তাতে বুঝি ফুল ফোটে নি একটাও? 

সুগন্ধিতে ভরিয়ে দেয় নি প্রাণ কখনো? 

 শান্তির ঘুম এনে দিয়েছে ছোট ছোট সাদা হাসনুহানা তোমাকে। 

আমাকে ভুলে গেলেও চলবে হাজারো ব্যস্ততায়। 

কিন্তু ভালোবাসো হাসনুহানাকে, 

আমিও তো চাই হাসনুহানাকে একান্তে। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

১৮/৬/২০২৫🥀🥀💮

Saturday, June 7, 2025

যেমন করে

 যেমন ফোটে আকাশমনি

যেমন ফোটে সাঝের তারা

যেমন ফোটে আতশবাজি

তেমনি ফুটুক শৈশব। 


যেমন হাসে চন্দ্রমুখী, 

যেমন হাসে রোদের ছটা, 

যেমন হাসে ফোকলা দাঁতী, 

তেমনি হাসুক কৈশোর। 


যেমন ছোটে কাজের মাসি, 

যেমন ছোটে অফিস বাবু, 

যেমন ছোটে হাওয়াই গাড়ি, 

তেমনি ছুটুক যৌবন। 


যেমন রাঙ্গায় পটের ছবি, 

যেমন রাঙায় অস্তরাগ, 

যেমন রাঙ্গায় পলাশ বিথী, 

তেমনি রাঙাক সুখের ঘর। 


যেমনি ঝরে শুকনো পাতা, 

যেমনি ঝরে উল্কা রাশি, 

যেমনি ঝরে পাহাড় ঝরা, 

তেমনি ঝরুক জীবন ভর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া

7/6/25








Saturday, May 31, 2025

চাকরি হারা

👩👩 সুখ -দুঃখের চৌরাস্তায়

বিন্দি পিসির ঘর। 

বেড়ার ঘরে সূর্য ঢোকে

জল পড়ে ঝর ঝর।। 


মুড়ি ভাজে বস্তা বস্তা

ভাইঝি পড়ায় নিজে। 

আশা নিয়ে বুক বেধেছে

চাকরি নেবে খুজেঁ।। 


বিন্দি পিসির ললাট চালে

মুড়ির কদর ভারী। 

ভাইঝি থাকে সাথে-পিঠে

লড়াই থাকে জারি।।। 


নয়ন পড়ে একা একাই

গরম টিনের চাল। 

ফড় ফড়িয়ে মুড়ি ফোটে

আগুন শিখা লাল। 


নয়ন যেদিন কলেজ গেল

পিসির চোখে জল। 

মনের ভিতর খুশির হাওয়া

হারিয়ে গেল বল।। 


নয়ন যায় মাস্টারি তে

চাকরি গেছে জুটে। 

স্কুলে তে ছাত্র নেই

ক্লাস ঘরে ঘুটে।। 


বছর ছয়েক পরে সেদিন

জানতে পারে নয়ন। 

চাকরিটা তার চলে গেছে

হারিয়ে গেল স্বপন।। 👩👩

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা পূর্ব পাড়া

নদীয়া। 

31/5/2025











সম্বল

👧👧 আমার কিছুই  নেই তোমাকে দেওয়ার মত-- সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল, নিলেও নিয়ে যেতে ...