Thursday, February 6, 2025

নীল কন্ঠ

🐦🐦 যে পাখি ডাক দিয়ে ফেরে,তাকে ডাকলে নাতো তুমি।

ফেলে গেছে সে নীল পালক খানি ,যা সবার চেয়ে দামি।।


মন যেখানে ডুব দিয়েছে, তাকে কই রেখেছো খোঁজ।

শিস দিয়ে যায় বনের পাখি ,ভোরের বেলা রোজ।।


ওই বনেতে একলা ঘুরে,  হঠাৎ পথ হারালে যেই।

ভাসিয়ে ডানা ডাকলো তোমায় , আঁখি কালো বন্ধু সেই।।


যখন ভুবন ভুলে গাইছিলে সুখ জড়ানো এক গান।

নরম পালক হারিয়ে দিলে , নীল কন্ঠ করলো দেখো মান।।


কোথায় যেন মুখ লুকিয়ে চুপি,  সে একা মন করেছে দুখী ।

উথাল পাথাল বাউল বাতাস,পাতা ঝরায় বনের যত শাখি।


নীল আকাশে ওই দেখা যায় ছোট্ট নীলচে ডানা দুটি।

সাথী তোমার উদাস দিনের, যে সোনার থেকেও খাঁটি।।🐦🐦


DR. KAJAL KUMAR BAKSHI

BAGULA ,NADIA ,WB ,741502

06/2/2025






Monday, January 27, 2025

বৃষ্টি ধারা

             বৃষ্টি ধারা👧👧


টিপ -টিপানি বৃষ্টি ধারা 

নাইতে গেছে নয়ন তারা।

চিক চিকানি রুপের ছটা

পুকুর জলে শালুক ভরা।।


বারিদ খুশি আকাশ জোড়া

রুপ মতীর আঁচল ভেজা।

ডুব ডুবানি জলের খেলা

এদিক ওদিক পদ্ম খোঁজা।।


হলদে সাদা ফুলের দোলা

পাতায় হাসে জলের ফোঁটা।

চিৎ সাঁতারে সূর্য্যি দেখা

ফুঁটলো পায়ে কুলের কাঁটা।।


রঙ বেরঙ্গের হাঁসের ডানা

জলের নীচে শ্যাঁওলা ভাসা।

ডুব দিয়েছে নয়ন তারা

ঝিনুক তুলে মুচকি হাসা।।


ক্লান্ত হলে শরীর খানা

সবাই ফেরে নাইকো তাড়া।

সবুজ ঘেরা গাঁয়ের পাড়া।

মেঘ হারালো জলের ঘড়া।।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া, 

২৮/১/২০২৫ 👧👧









Saturday, January 25, 2025

পুতু ম্যাও

আমার আছে একটি সাদা কালো আদুরে  ম্যাও ।
তোমরা কি তাকে কখনো ভালোবাসতে চাও?
তাহলে একটিবার এসে কথা বলে যাও।

কাজের মধ্যে  ঘুম ,খাওয়া দাওয়া আর কোলে চড়া।
চোখ দুটো তার মলিন গোছের ,বেশ নজর কাড়া।
দুধ, মাছ ভাত, এটা সেটা খায়, কেবল তেঁতো ছাড়া।

পুতু বলে যেই ডেকেছো তাকে অমনি হবে হাজির।
ইদুঁর ধরেছে কিংবা শালিক তেমন নেই নজির।
মাঝে মধ্যে পাড়া ঘোরে, তার সবার সঙ্গে খাতির।

আমার আছে একটি সাদা কালো লম্বা ল্যাজের ম্যাও।
তার আবার তিন তিনটে পুঁচকে পুঁচকে ছাও।
ওদের নিয়েই জীবন কাটে, বাইছি সুখের নাও।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ। 
২৫/১/২০২৫








Tuesday, January 14, 2025

মকরে হাতি

 কাঁদা ভরা ডোবায় পড়লো বনের হাতি,

বলল "তোমরা আমাকে বাঁচাও "।

পাড়ের ধারের মানুষজন বলল হেসে হেসে 

"তুমি আরো খানিকক্ষণ চেঁচাও।


দেখছো না ?আজ মকর বটে, 

কখন খাব পিঠে? আর কখনই বা তুলবো? "

পরে খাবে, আগে আমাকে তো তোলো। 

উঠলেই সব পিঠে আমি একাই খাবো।


তাই নাকি? তাহলে তুমি ওখানেই থাকো। 

বরং শুঁড় তুলে ডাকো তোমার মাকে।

ভ্যাবলা হাতি পড়ে ডোবার জলে ,

আর টুসু টুসু গান ধরেছে গাঁয়ের লোকে।


নাচ হলো, গান হল, বাজলো জোরে ধামসা ,

মোরগ লড়াই চললো বেদম মেলার মাঝে।

জিলাপি খেয়ে হাতি 🐘 উঠল দড়ির টানে,

খুশিতে আগুন জ্বলল বনের হিমেল সাঁজে।


টুসু খেলো মাংস পিঠা, হাতি গেল বনে ,

নদীর জলে ডুব দিলে কে? নুতন গামছা নিলে কই? 

হাতিগুলো ওই চলে যায়, হেলে দুলে আপন মনে,

আর মকর  দিনে মদনা পেলো মন জুড়ানো সই।



ডাঃ কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, 

১৫/১/২৫






















Tuesday, December 24, 2024

রোদ্দুর হলো মিঠে

 রক্তিম বললো "আমি তোমাকে ভালোবাসি"।

কাজরী ও বললো "আমিও তোমাকে ভালবাসি"।

তারপর শুধুই হাসি............

সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল হলদে সরষে ফুলের মাঠে, 

চূর্ণী নদীর শান্ত জলে, প্রতিটি ব্যস্ত ঘাটে ঘাটে,

সবই হলো রঙ্গিন, শীতের রোদ্দুর হলো আরো মিঠে।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

২৪/১২/২০২৪








Saturday, December 7, 2024

শয়তান বাবা

 মা আমার বাবার নাম কি? আমার বাবা কোথায়?

-- আমার রোজ রোজ একই  প্রশ্ন শুনতে ভাল লাগেনা। বললাম তো, ওই পাক সেনারা জানে তোর বাবার কথা। 

--তারা জানবে কেন? 

--- ঘন্টা খানেকের মধ্যে কাকেই বা চিনে রাখা যায় আর কাকেই বা মনে রাখা যায়। 

--ঘন্টাখানেক কেন? বাবা কি  কিছুদিনের জন্যও  কখনো এই বাড়িতে থাকেনি ?

--একটা লোক বলল "আমি আসছি একটু পরেই। তুই এখানেই থাকবি। "

--তারপর সে আর কখনো ফিরে আসেনি, কোনদিন দেখিনিও তাঁকে আর।

--তোমার কাছে কি কোন ছবি বা চিহ্ন কিছুই ছিল না? 

--থাকবে না কেন? কিন্তু সেটা দেখানোর মতো নয় তোকে। শুধু একটা লোহার বালা হাত থেকে খসে পড়েছিল, সেটাই রেখে দিয়েছি। পরে তোকে দেখাবো। 

এবং সেটাই শেষ চিহ্ন তার। 

-- পরে অবশ্য খোঁজখবর নিয়ে জেনেছিলাম ভারতীয় সৈন্যরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর আর জানিনা কিছুই। 

-- মা ,আমি আজ থেকে পাকিস্তানের দলে। আমি পাকিস্তানে যাব বাবাকে খুঁজতে। 

--কি সব পাগলের মত কথা বলছিস। এখন কি আর তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 

--তবে তারা চলে গেলেও এই বাংলায় হাজার হাজার রক্ত বীজ রোপন করে গেছে। তার মধ্যে তুই একটা। হাজার হাজার মা-বোনেদের ইজ্জত রক্ষা করেছে, প্রাণ বাঁচিয়েছে এই ভারতীয়রা। আমি তাদেরই দলে। 

--তুই একটা বিষাক্ত সাপের ফনা। তোর ছোবলে অনেক মা সন্তানহারা হতে পারে। 

-- কালই তুই আমার এই ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাবি কোথাও।

 --সারা জীবন ধরে তুই তোর শয়তান বাবাকে খুঁজে বেড়া। আমি আর কিছু বলবো না। 

লাদেন অনেকক্ষণ বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলো। তার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল। চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হতে লাগলো। 

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পাগলের মত দৌড়ে ঘরের ভিতর থেকে ইয়া বড় একটা রামদা বের করে রাস্তার দিকে  দৌড়াতে শুরু করল।

তারপর বলতে শুরু করলো" পাকিস্তান জিন্দাবাদ। ভারত তুমি নিপাত যাও আমার বাবাকে খুঁজে দাও। ভারত তুমি দুর হটো আমার বাবাকে খুঁজে আনো। নইলে তোমার মুণ্ডু চাই আমার বাবা ফেরত  পাই। "

ছেলে চলে যাওয়ার পর লাদেনের মা প্রায় পাগলিনীর মত দৌড়ে ঘরে ঢুকে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করল। সেই ভাঙ্গা টিনের বাক্স থেকে একটা ছেড়া রক্তমাখা, বীর্যের দাগ লাগানো  কাপড় টেনে বার করলো। কাপড়টা জড়িয়ে ধরে সে কাঁদতে লাগলো। চিৎকার করে করে বলতে লাগলো "পাকিস্তান তুমি দুর হটো। আমার দেশের মাটি শুদ্ধ করো। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। ভিক্ষে করে খাবার খাও। লক্ষ্য মায়ের অভিশাপ তোমার গায়ে। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। আমাদের একটু শান্তিতে ঘুমাতে দাও।

অচৈতন্য অবস্থায়  লাদেনের মা একা ঘরে শুয়ে থাকলো।

 কেউ তাঁকে খুঁজতে এলোনা আর। ঘুমের মধ্যে কেউ যেন তাঁকে ফিসফিস করে বলতে লাগলো, আমরা এখনো মরে যায়নি, আমরা আবার আসছি, আবার তোদের হাজার হাজার মায়ের ,বোনের রক্ত টেনে নেব। হাজার হাজার রক্তবীজ রোপন করব। তোদের চোখের জল যতক্ষণ না শুকিয়ে খাক হয়ে যাবে ততদিন আমরা আসতেই  থাকবো।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া,

৭/১২/২০২৪







Tuesday, November 26, 2024

মুন ইউটিউবার

মুন কয়দিন ধরে ঠিক করতেই পারছেনা  যে, ইউটিউবে পরবর্তী কনটেন্ট টা কি হবে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে মাথার মধ্যে একটা আইডিয়া আসলো যে, সে চাল কুমড়োর মোরব্বা তৈরি করবে এবার। যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। ওদের গোয়াল ঘরে টালির চালে কয়েকটা চাল কুমড়ো পেকে রয়েছে অনেক দিন। সাধারণত পাকা চাল কুমড়ো গুলো এই ভাবেই ঘরের চালে রেখে দেয়া হয়। সময়মতো ওগুলো পাড়া হয় বিভিন্ন কাজে।

মুন একটা বাঁশের  মই যোগাড় করে গোয়াল ঘরের টালির চালে সে নিজেই উঠে পড়ল। প্রায় ১০ কিলো ওজনের একটা ইয়া বড় পাকা সাদা চাল কুমড়ো কেটে দুই হাত দিয়ে তুলে কোলে নিলো। তারপর চাল কুমড়োটা সহ আস্তে আস্তে সে চালের থেকে নামতে শুরু করলো। কিন্তু ভীষণই দুর্ভাগ্য তার, হঠাৎ করে চাল কুমড়োটা হাত থেকে ফসকে টালির চালের পরে সজোরে পড়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গেই পট পট করে টালি গুলো ভেঙ ধম করে পড়লো চাল কুমড়োটা নিচে। মুন ও সঙ্গে সঙ্গে ব্যালেন্স না রাখতে পেরে ধপ করে গোয়াল ঘরের মধ্যে  করে পড়ে গেল।

মুন পড়ে যেতেই সে চিৎকার করতে শুরু করল ও বাবা ও মা আমাকে বাঁচাও আমি পড়ে গেছি দেখো ।আমার কি হয়েছে। হঠাৎ করে বিকট শব্দে ও মুনের চিৎকারে সবাই ছুটে আসলো আতঙ্কে। দেখলো মুন গোয়াল ঘরের মধ্যে পড়ে আছে। গায়ে রক্ত লেগে । আর কান্না করছে। বাড়ির সকলে মুনের পুড়ে যাওয়াতে হতভম্ব হয়ে গেল। তারা কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না তৎক্ষণাৎ। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য সম্বিত ফিরতেই তড়িঘড়ি করে মুনকে নিয়ে গেল হাসপাতালে। 

হাসপাতালে ভর্তি হতেই ডাক্তারবাবু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানালো আঘাত বেশ গুরুতর। সম্ভবত পা ফ্র্যাকচার ও হতে পারে। পরে ডাক্তারবাবুর নির্দেশ মতো মনের পা এক্স রে করানো হলো। এক্সরে তে দেখা গেল ডান পায়ের পাতার হাড়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়েছে। মুনকে নিয়ে যাওয়া হল ভালো নার্সিংহোমে। সেখানে মুনের ডান পায়ের প্লাস্টার করানো হলো। মুনকে ভর্তি করে রেখে সকলে একটু স্বস্তি পেল। 

প্রায় দুদিন পর মুনের শরীরটা একটু ভালো বোধ হল। শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু চোখমুখে এখনো ভয় এবং আতঙ্কের রেশ রয়ে গেছে। একে একে সবাই দেখতে আসছে তাকে। মুন ও টুকটাক তাদের সঙ্গে কথাও বলছে। মুনের যে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগেনি এই কথা সকলেই বারে বারে বলতে লাগলো।।

বিকেল বেলার ভিজিটে মুনের মা তাকে দেখতে আসলে মুন মাকে বললো "মা তুমি আমার মোবাইলটা একটু এনে দেবে?" 
মা বললো "কেন রে? তুই এখন মোবাইল দিয়ে কি করবি "।
"তুমি বুঝতে পারছ না, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল ফলোয়ারদের জানাতে হবে না? এমনিতেই অনেকে ফোন করছে। হয়তো। আমার এই অবস্থা জানলে তারা ভীষণই কষ্ট পাবে।

 আমাকে তাদেরকে একটু আশ্বস্ত করতে হবে ।আপডেট দিতে হবে।।"
মুনের মা বললো " মোবাইলটা আমার সঙ্গেই আছে তুই নিতে পারিস। সবকিছু হবে আগে তুই তাড়াতাড়ি একটু সুস্থ হয়ে নে। ভাঙা পা নিয়ে কতদিন ঘুরতে হবে কে জানে। কালকেই তোকে ছেড়ে দেবে ।এক সপ্তাহ পরে চেকআপে আবার আসতে হবে।"

এই নে তোর ফোন। এখন কাছে রেখে দে। 
কিছুক্ষণ মায়ের সঙ্গে কথাবার্তার পর ওর মা চলে গেল। 

মুন একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মোবাইলটা অন করলো। নিজের ইউটিউবের একাউন্ট খুলে রিল তৈরি করতে শুরু করলো। 
পোস্টে বললো, হাই গাইস, এই দেখো আমার কি অবস্থা হয়েছে ।তোমাদের জন্য চাল কুমড়ার মোরব্বা তৈরি করতে গিয়ে আমার এই হাল হয়েছে। মাথায় লেগেছে বুকে লেগেছে রক্ত বেরিয়েছে পা ভেঙেছে, অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। প্রায় মর মর অবস্থা হয়েছিল আমার। ঠাকুরের ইচ্ছায় এবং আপনাদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসায় আমি এখনো বেঁচে আছি। আপনাদের অশেষ সহযোগিতা ও ভালোবাসা না থাকলে আমি আজ বেঁচে উঠতেই পারতাম না।। আমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে এবং আবারো আমি নিজেই টালির ছাদে উঠে চাল কুমড়ো পেড়ে ,চাল কুমড়ার মোরব্বা করে দেখা বই দেখাবো। 
আশাকরি আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন আমাকে আশীর্বাদ করবেন যাতে করে আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠতে পারি এবং তাড়াতাড়ি রিল তৈরি করতে পারি। যদিও সামনে আমার পরীক্ষা রয়েছে, জানি অনেক ক্ষতি হয়ে গেল কিন্তু চাল কুমড়োর মোরব্বা একটি অসাধারণ রেসিপি। এটাকে কখনোই অবজ্ঞা করা যায় না। হাই গাইস ,আজকে আর বেশি কথা বলবো না ,দেখতেই তো পাচ্ছ আমার কি অবস্থা !। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন আর চাল কুমড়ো রেসিপির জন্য কোন পরামর্শ থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।"
মুন তারপর এই আপডেট পোস্ট করে দিয়ে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে ঘুমিয়ে পড়ল। 

পরেরদিন মুন সকালের চোখ মেলে দেখে, কাচের জানালা দিয়ে হুড় হুড় করে ভোরের আলো ঢুকছে তির্যক ভাবে। ঘুঘু ডাকছে এক নাগাড়ে। মনটা খুশিতে ভরে গেলো। কিন্তু পরক্ষণেই নিজের প্লাস্টার লাগানো পা টা দেখেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো মুন। আজকে মুনের ছুটি হয়ে যাবে।
 সে বাড়ি ফিরে যাবে বিকালে। মুন বালিশের তলা থেকে নিজের মোবাইলটা বের করে তার অ্যাকাউন্টের আপডেট দেখতে শুরু করল। কিন্তু একি !এ তো দেখছি হাজার হাজার কমেন্টস। খুশিতে ভরে গেল তার মন। মোটামুটি কমেন্টসগুলোর সারমর্ম এই যে , ফলোয়ার  বলছেন, দিদি আপনি যত তাড়াতাড়ি পারুন সুস্থ হয়ে উঠুন ।আমরা আপনার পিছনে আছি, সবাইকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি শেয়ার করে এই ব্যাপারটা। আমাদের সবুজ মুক্তি সংঘ এ ব্যাপারে একটা মিটিংও ডেকেছে। আপনার কোন সহযোগিতা লাগলে আর  ও অন্যকোন যেকোনো সাহায্য লাগলে আমাদের অবশ্যই জানাবেন। আমরা আপনার পিছনে সর্বদা আছি ।আপনি সুস্থ হয়েই আমাদের চাল কুমড়ো রেসিপি টা অবশ্যই বানিয়ে দেখাবেন। আপনি ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। মুনদি জিন্দাবাদ ,আমরা আছি ও থাকবো। মুন তো কমেন্টগুলো পড়ে ভীষণই খুশি ।তার সব পা ব্যথা নিমেষেই উবে গেল।


এইভাবে প্রায় মন ২ মাস ধরে ডাক্তারবাবুর ওষুধ খেয়ে এক্সারসাইজ করে মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠলো। প্লাস্টার খোলা হয়ে গেছে কিছুদিন আগে ।এখন সে হাঁটাহাঁটি করতে শুরু করেছে। আর ভাবছে, কখন সে চাল কুমড়োর রেসিপিটা তৈরি করবে। চাল কুমড়ো রেসিপি তৈরি হয়ে গেলেই সে একটা আপডেট দেবে। 

মুন আপাতত বাজার থেকে একটা চাল কুমড়ো কিনে এনে চাল কুমড়ো মোরব্বা তৈরি করার মহড়া শুরু করল। চাল কুমড়ো গুলো ডুমো ডুমো করে কেটে, ফুটো ফুটো করে চুনের জলে ভিজিয়ে, পরিষ্কার করে চিনির জলে ভিজিয়ে মোরব্বার তৈরির প্র্যাকটিস করল। কিন্তু যতবারই সে মোরব্বা তৈরি করতে যাচ্ছে ততবারই মোরব্বা না হয়ে ঠিক জেলির মত হয়ে যাচ্ছে। বাজার থেকে যে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে সে চাল কুমড়ার মোরব্বা এনেছিল তার মত হচ্ছে না। ভাবছি এরকম মোরব্বা বানালে তো আমাকেই সকলে ই উল্টোপাল্টা বলবে। 

যাইহোক বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরে ফল মিলল। সে একদিন চাল কুমড়ার মোরব্বা রেসিপি নিজের একাউন্টে পোস্ট করল। 
চাল কুমড়ো রেসিপি দেখে তো হাজার হাজার ফলোয়ার্স আনন্দে আত্মহারা। হাজার হাজার কমেন্টস আসছে।

মুন আমাকে প্রায়ই বলতো, "ডাক্তার কাকু, আপনার কি ৫ ০০ ফলোয়ার্স হয়েছে ?আমার তো প্রায় ৫০ হাজার হতে চলল। "
আমি বললাম "দেখো মা ,আমি ফলোয়ার্সের আশা আর করি না এই মাঝেমধ্যে টুকটাক পোস্ট করি এই অব্দি। মুন এই কথা শুনে একগাল হেসে বলতো "হবে হবে ,আপনার হবে অনেক ফলোয়ার্স হবে একদিন। "

এর মধ্যে  হয়েছে কি , মুন কে নিয়ে কেউ রোস্ট করেছে যে  মুন নিজে আর টালির চালে উঠে চাল কুমড়ো পেড়ে আনেনি, বাজার থেকে মোরব্বা কিনে এনে সবাইকে দেখিয়েছে। আসলে মুন আমাদের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণায় করেছে। 


 এই রোস্ট দেখে,মুন তো খেপে লাল। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা পোস্ট করল সে। এইভাবে পোস্ট তার পাল্টা পোস্ট চলল কিছু কিছু দিন।

কিছুদিন পরে মুন ভীষণই একটা বড় পোস্ট করল । 
বলল হাই গাইস, আজকে একটা বিশেষ খবর জানাবো তোমাদের।  তোমাদের সবাইকে অবাক করে দেবো। আমি আজকে আমার  ছোটবেলা থেকেই দেখা স্বপ্ন ও ইচ্ছা তাকে বিসর্জন দেব। আমি  আর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছি না। ওডিসি নাচ বাদ দিয়ে দিয়েছি। আমি এখন বড় ইউটিউবার হতে চাই। নানান ধরনের রেসিপি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। যদিও মা আমাকে সব সময় বলতো, তুই বড় চাকরি করবি, কখনোই রান্নাবান্না করতে হবে না তখন। ভালো করে লেখাপড়া শেখো। আমি আর মায়ের কথা রাখতে পারলাম না। হাই গাইস ,এর জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও আমাকে তোমরা আগের মতই আশীর্বাদ ও ভালোবাসা দেবে। আমি এখন পুরনো বাড়িটা ছেড়ে নতুন বাড়ি কিনব বেহালায়। সেটাও তোমাদের আপডেট দেবো। তোমাদের সাপোর্ট আর ভালোবাসা না থাকলে আমি এই বাড়িটা কখনোই কিনতে পারতাম না মনে হয়। ভাগ্যিস আমার পা ট ভেঙে গেছিল।
 তাই জেদ এসেছিল যে আমাকে চাল কুমড়ো রেসিপি বানাতেই হবে।। আর এই জেদ আমাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গেছে। চাল কুমড়ার মোরব্বা ভাইরাল হয়েছে। আপনারা থাকলে আমাকে আর ফিরে তাকাতে হবে না। দেখতেই তো পাচ্ছেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা কিভাবে মার খাচ্ছে। কিভাবে অবহেলিত হচ্ছে । অধিকাংশ ডাক্তার বাবুরা কন্ট্রাকচুয়াল এ কাজ করেন। বছরের পর বছর তাদের কোন বেতনই বাড়ে না।সেই জন্য আর ডাক্তার হতে চাই না। চাল কুমড়া রেসিপিই ভালো। ওডিসি নাচ টা পায়ের ব্যথার জন্য আর করতেও পারবো না। আপনাদের জন্য সুখবর পরবর্তী আমার রেসিপি চালতা বেটে খুরমা চাটনি বানাতে হয় সেটা দেখাবো। আশা করি আপনারা ভিডিওটা দেখবেন। আজ এই অব্দি সকলে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। চাল কুমড়ো রেসিপি বাড়িতে বানিয়ে কেমন খেলেন জানাবেন।"

অনেক রাত্রে মুন এই পোস্টটা করে ঘুমিয়ে পড়ল। সারা আকাশ জুড়ে তারায় ভরে গেছে। নিস্তব্ধ রাত। মুনের জীবনের পুরনো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হলেও নতুন স্বপ্নের সন্ধানে সে বিভোর। মুন যে একজন সফল ইউটিউবার । হাই গাইস ,ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুড়া, নদীয়া 
২৬/১১/২০২৪









এই দেশে

চলো চলো ওই দূরে ঘুরে ঘুরে পথ চিনে।  ধান ক্ষেত পাশে রেখে ঢুকে পড়ি কাশ বনে।  খাল বিল লাফ দিয়ে এসে পড়ো নদী পাড়ে।  কালো জলে চাঁদ ভাসে গান গা...