মা আমার বাবার নাম কি? আমার বাবা কোথায়?
-- আমার রোজ রোজ একই প্রশ্ন শুনতে ভাল লাগেনা। বললাম তো, ওই পাক সেনারা জানে তোর বাবার কথা।
--তারা জানবে কেন?
--- ঘন্টা খানেকের মধ্যে কাকেই বা চিনে রাখা যায় আর কাকেই বা মনে রাখা যায়।
--ঘন্টাখানেক কেন? বাবা কি কিছুদিনের জন্যও কখনো এই বাড়িতে থাকেনি ?
--একটা লোক বলল "আমি আসছি একটু পরেই। তুই এখানেই থাকবি। "
--তারপর সে আর কখনো ফিরে আসেনি, কোনদিন দেখিনিও তাঁকে আর।
--তোমার কাছে কি কোন ছবি বা চিহ্ন কিছুই ছিল না?
--থাকবে না কেন? কিন্তু সেটা দেখানোর মতো নয় তোকে। শুধু একটা লোহার বালা হাত থেকে খসে পড়েছিল, সেটাই রেখে দিয়েছি। পরে তোকে দেখাবো।
এবং সেটাই শেষ চিহ্ন তার।
-- পরে অবশ্য খোঁজখবর নিয়ে জেনেছিলাম ভারতীয় সৈন্যরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর আর জানিনা কিছুই।
-- মা ,আমি আজ থেকে পাকিস্তানের দলে। আমি পাকিস্তানে যাব বাবাকে খুঁজতে।
--কি সব পাগলের মত কথা বলছিস। এখন কি আর তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
--তবে তারা চলে গেলেও এই বাংলায় হাজার হাজার রক্ত বীজ রোপন করে গেছে। তার মধ্যে তুই একটা। হাজার হাজার মা-বোনেদের ইজ্জত রক্ষা করেছে, প্রাণ বাঁচিয়েছে এই ভারতীয়রা। আমি তাদেরই দলে।
--তুই একটা বিষাক্ত সাপের ফনা। তোর ছোবলে অনেক মা সন্তানহারা হতে পারে।
-- কালই তুই আমার এই ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাবি কোথাও।
--সারা জীবন ধরে তুই তোর শয়তান বাবাকে খুঁজে বেড়া। আমি আর কিছু বলবো না।
লাদেন অনেকক্ষণ বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলো। তার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল। চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হতে লাগলো।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পাগলের মত দৌড়ে ঘরের ভিতর থেকে ইয়া বড় একটা রামদা বের করে রাস্তার দিকে দৌড়াতে শুরু করল।
তারপর বলতে শুরু করলো" পাকিস্তান জিন্দাবাদ। ভারত তুমি নিপাত যাও আমার বাবাকে খুঁজে দাও। ভারত তুমি দুর হটো আমার বাবাকে খুঁজে আনো। নইলে তোমার মুণ্ডু চাই আমার বাবা ফেরত পাই। "
ছেলে চলে যাওয়ার পর লাদেনের মা প্রায় পাগলিনীর মত দৌড়ে ঘরে ঢুকে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করল। সেই ভাঙ্গা টিনের বাক্স থেকে একটা ছেড়া রক্তমাখা, বীর্যের দাগ লাগানো কাপড় টেনে বার করলো। কাপড়টা জড়িয়ে ধরে সে কাঁদতে লাগলো। চিৎকার করে করে বলতে লাগলো "পাকিস্তান তুমি দুর হটো। আমার দেশের মাটি শুদ্ধ করো। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। ভিক্ষে করে খাবার খাও। লক্ষ্য মায়ের অভিশাপ তোমার গায়ে। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। আমাদের একটু শান্তিতে ঘুমাতে দাও।
অচৈতন্য অবস্থায় লাদেনের মা একা ঘরে শুয়ে থাকলো।
কেউ তাঁকে খুঁজতে এলোনা আর। ঘুমের মধ্যে কেউ যেন তাঁকে ফিসফিস করে বলতে লাগলো, আমরা এখনো মরে যায়নি, আমরা আবার আসছি, আবার তোদের হাজার হাজার মায়ের ,বোনের রক্ত টেনে নেব। হাজার হাজার রক্তবীজ রোপন করব। তোদের চোখের জল যতক্ষণ না শুকিয়ে খাক হয়ে যাবে ততদিন আমরা আসতেই থাকবো।
ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুড়া, নদীয়া,
৭/১২/২০২৪

No comments:
Post a Comment