Wednesday, June 25, 2025

হেতাল বনে

 গা ছমছম  হেতাল বন, 

মনের ভিতর উচাটন। 

ডোরাকাটা বাঘের ছাও

তোমরা যদি দেখতে পাও

তবেই ভিড়াই কাঠের নাও। 


হেতাল গাছের ভিতর থেকে

কি দেখা যায় খাড়ির বাঁকে? 

বাঘ নয় তো? নাকি অন্য কিছু? 

এগিয়ে চলো নৌকা পিছু, 

দেখতে পেলাম ভোঁদড় কিছু। 


এইরে! লাফ দিয়েছে বাঘের বাপ, 

ভয়ে পালায় দাড়াস সাপ। 

এক লাফেতেই  নদীর ওপার, 

মাখলো  কাদা, ভিজলো গতর

ভয়েই  থাকে নীথর চর। 


সুন্দর বনের কুমিরগুলো

অলস ভারি ,খাওয়ার নূলো। 

শুয়ে কাটায় খাড়ির চরে। 

চোখ বুজে রয় ঘাপটি মেরে

সুযোগ পেলেই কাঁকড়া ধরে। 


সুন্দরী ,গরান ,গেওয়া, মৌমাছি

এদের নিয়েই আমরা আছি। 

ওই দেখা যায় কুমিরমারি

মেঘে মেঘে আকাশ ভারি

একলা পথে বাপ হারানো ফুলকুমারী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া২৫/৬/২০২৫






Wednesday, June 18, 2025

হাসনুহানা

💮💮  এইতো সেদিন বললে" ভালোবাসি"

আবার আজকেই বললে" ভুল করেছি"

বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সেই তো আবার  জানালে দারুণভাবে হেরে গেছো তুমি। 

আমি তো দিয়েছিলাম তোমাকে একটি হাসনুহানা গাছ। 

তাতে বুঝি ফুল ফোটে নি একটাও? 

সুগন্ধিতে ভরিয়ে দেয় নি প্রাণ কখনো? 

 শান্তির ঘুম এনে দিয়েছে ছোট ছোট সাদা হাসনুহানা তোমাকে। 

আমাকে ভুলে গেলেও চলবে হাজারো ব্যস্ততায়। 

কিন্তু ভালোবাসো হাসনুহানাকে, 

আমিও তো চাই হাসনুহানাকে একান্তে। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

১৮/৬/২০২৫🥀🥀💮

Saturday, June 7, 2025

যেমন করে

 যেমন ফোটে আকাশমনি

যেমন ফোটে সাঝের তারা

যেমন ফোটে আতশবাজি

তেমনি ফুটুক শৈশব। 


যেমন হাসে চন্দ্রমুখী, 

যেমন হাসে রোদের ছটা, 

যেমন হাসে ফোকলা দাঁতী, 

তেমনি হাসুক কৈশোর। 


যেমন ছোটে কাজের মাসি, 

যেমন ছোটে অফিস বাবু, 

যেমন ছোটে হাওয়াই গাড়ি, 

তেমনি ছুটুক যৌবন। 


যেমন রাঙ্গায় পটের ছবি, 

যেমন রাঙায় অস্তরাগ, 

যেমন রাঙ্গায় পলাশ বিথী, 

তেমনি রাঙাক সুখের ঘর। 


যেমনি ঝরে শুকনো পাতা, 

যেমনি ঝরে উল্কা রাশি, 

যেমনি ঝরে পাহাড় ঝরা, 

তেমনি ঝরুক জীবন ভর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া

7/6/25








Saturday, May 31, 2025

চাকরি হারা

👩👩 সুখ -দুঃখের চৌরাস্তায়

বিন্দি পিসির ঘর। 

বেড়ার ঘরে সূর্য ঢোকে

জল পড়ে ঝর ঝর।। 


মুড়ি ভাজে বস্তা বস্তা

ভাইঝি পড়ায় নিজে। 

আশা নিয়ে বুক বেধেছে

চাকরি নেবে খুজেঁ।। 


বিন্দি পিসির ললাট চালে

মুড়ির কদর ভারী। 

ভাইঝি থাকে সাথে-পিঠে

লড়াই থাকে জারি।।। 


নয়ন পড়ে একা একাই

গরম টিনের চাল। 

ফড় ফড়িয়ে মুড়ি ফোটে

আগুন শিখা লাল। 


নয়ন যেদিন কলেজ গেল

পিসির চোখে জল। 

মনের ভিতর খুশির হাওয়া

হারিয়ে গেল বল।। 


নয়ন যায় মাস্টারি তে

চাকরি গেছে জুটে। 

স্কুলে তে ছাত্র নেই

ক্লাস ঘরে ঘুটে।। 


বছর ছয়েক পরে সেদিন

জানতে পারে নয়ন। 

চাকরিটা তার চলে গেছে

হারিয়ে গেল স্বপন।। 👩👩

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা পূর্ব পাড়া

নদীয়া। 

31/5/2025











Thursday, May 29, 2025

রঙিন ঘুড়ি

 আছে তোমার শান বাধানো বকুলতলা । 

সুগন্ধ বয়ে যায় সারাবেলা, 

আমার কিন্তু নেই অবকাশ সেখানে বসবার। 


তোমার আছে চৌকো ছাদ বাগান । 

রোদ আর হাসির লুটোপুটি চলে, 

আমার সামর্থ্য নেই উপরে উঠবার। 


কাঠগোলাপের শুভ্রতাও আছে তোমার। 

সারা উঠোন জুড়ে ছড়ানো ফুল, 

আমার কিন্তু ইচ্ছা নেই ওগুলো কুড়াবার। 


তোমার আছে ছোট্ট আরেকটি পুকুর। 

শালুক ফোটে, মাছরাঙ্গা এসে বসে, 

আমার কিন্তু খেয়াল নেই ফিরে তাকাবার। 


তোমার পৃথিবীতে যা যা আছে, 

সবই দামি এবং মোহ ময়। 

আমার কিন্তু নেই কিছু হারাবার। 


তোমার আছে সৌন্দর্য আর গলায় সুর। 

 সারা বাড়ি ঝরে পড়ে সুখ, 

আমার কিন্তু মন নেই গান গাইবার। 


তোমার বারান্দা আছে, বেতের চেয়ার ও রয়েছে

বিকেলে চায়ের উষ্ণতার ছোঁয়া লাগে, 

আমার কিন্তু ইচ্ছ নেই  চুমুক দেওয়ার। 


তোমার আছে হাজারো রঙিন স্বপ্ন । 

সদর দরজায় রঙিন বেগনভেলিয়া ঝুঁকে ঝুঁকে পড়ে, 

আমার কিন্তু নেই বাসনা ছুয়ে  দেখবার। 


তাহলে আমার আছেটা কি? 

আছে বিনি সুতোয় বাঁধা একটি রঙিন ঘুড়ি, 

কারণে-অকারণে যাকে ওড়াই সহস্র বার। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

29/5/2025




 



 








Friday, April 18, 2025

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে।

 ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে, পাতার পরে। 

গুড়ের নাড়ু গোল্লা পাকাই, সই ঠানদির রান্নাঘরে।

তালের সারি লম্বা ভারী, পুকুরটি চৌপল ,

আকাশ খানি হালকা হলো ,নিংড়ে সকল জল। 

সোনা মুগের ডাল, গাওয়া ঘি ,আলু লঙ্কা জিরে 

গন্ধ ছড়ায় খিচুড়িতে, খাচ্ছি শুধু চামচ  ভরে। 


ঘুম ভেঙ্গে যায় কোলা ব্যাঙের, ডাকতে থাকে জোরে, 

টুনটুনিটার  ভাঙলো বাসা ,বাচ্চারা সব গেল মরে। 

পাটকাটা, ধান ঝাড়া, রয়ে গেছে বাকি ,

টক ঝাল, আম মাখা, আমরা ছবি আঁকি ।

গরু গুলো দাঁড়িয়ে ভেজে, ওই দেখা যায় দূরে 

দিদিমা চলেন গুটি গুটি নাতির হাতটি ধরে। 


ওই যে আবার রোদের ঝিলিক চিকটিকিয়ে ওঠে 

খুশির হাওয়া ছুঁয়ে গেল রাঙা দিদির ঠোঁটে ।

নাড়ু গুলো ফুরিয়ে গেল ঠান্ডা হতে হতে ,

মিষ্টি যত হয়নি খাওয়া, দই রয়েছে পাতে ।

জল জমেছে খালে বিলে আর হলুদ ধানের মাঠে, 

গান ধরেছি আমরা সবাই বিছানা পাতা খাটে ।


রঙিন ছাতা, বাদাম ভাজা, কালো নুনের গুঁড়ো 

গাছের গোড়ায় আমের গুটি কেউ করেছে জড়ো 

তবলা বাজায় আপন ভুলে 

পুঁচকে ছোড়া ছন্দ তুলে। 

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে, ফোটায় বড় বড় -

বাঁধের পাড়ে গরিব মানুষ ভয়ে জড়োসড়ো। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ 

১৮/৪/২৫




Saturday, April 12, 2025

বসু বাড়ির দিদা

 👵👵একলা হাসে একলা গায়

বসু বাড়ির দিদা।

রোজ শনিতে মানত করে

গীতা পড়েন সদা।


কারো তেমন ধার ধারে না

দিনেই চলে ফেরে,

বুধ বারেতে ভাজবে লুচি

কাপড় জামা ছেড়ে।


পূজো -পার্বণ লেগেই থাকে

বিধি-নিষেধ কত,

তিন বেলাতে ঠাকুর সেবা

প্রসাদ কতো শত।


হাজারো লোক আসতে থাকে

যেমন খুশি খায়,

তারা আবার পোটলা বেঁধে

খাবার নিয়ে যায়।


দিদার ভীষণ দরাজ হাত

বিলিয়ে দিয়ে খুশি,

প্রনাম দিলে তবেই তাঁর

মুখে ফুটবে হাসি।


বসু বাড়ির তিনটে ছেলে 

কেউ থাকেনা বাড়ি।

উনিই একা পাহারাদার

সময় মাপে ঘড়ি।


কৃষ্ণ ঠাকুর, জপের মালা

সাধু ভক্তের ভোজ,


দিদা থাকেন একলা ঘরে

কেউ রাখেনা খোঁজ।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১১/০৪/২০২৫





সম্বল

👧👧 আমার কিছুই  নেই তোমাকে দেওয়ার মত-- সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল, নিলেও নিয়ে যেতে ...