Thursday, May 29, 2025

রঙিন ঘুড়ি

 আছে তোমার শান বাধানো বকুলতলা । 

সুগন্ধ বয়ে যায় সারাবেলা, 

আমার কিন্তু নেই অবকাশ সেখানে বসবার। 


তোমার আছে চৌকো ছাদ বাগান । 

রোদ আর হাসির লুটোপুটি চলে, 

আমার সামর্থ্য নেই উপরে উঠবার। 


কাঠগোলাপের শুভ্রতাও আছে তোমার। 

সারা উঠোন জুড়ে ছড়ানো ফুল, 

আমার কিন্তু ইচ্ছা নেই ওগুলো কুড়াবার। 


তোমার আছে ছোট্ট আরেকটি পুকুর। 

শালুক ফোটে, মাছরাঙ্গা এসে বসে, 

আমার কিন্তু খেয়াল নেই ফিরে তাকাবার। 


তোমার পৃথিবীতে যা যা আছে, 

সবই দামি এবং মোহ ময়। 

আমার কিন্তু নেই কিছু হারাবার। 


তোমার আছে সৌন্দর্য আর গলায় সুর। 

 সারা বাড়ি ঝরে পড়ে সুখ, 

আমার কিন্তু মন নেই গান গাইবার। 


তোমার বারান্দা আছে, বেতের চেয়ার ও রয়েছে

বিকেলে চায়ের উষ্ণতার ছোঁয়া লাগে, 

আমার কিন্তু ইচ্ছ নেই  চুমুক দেওয়ার। 


তোমার আছে হাজারো রঙিন স্বপ্ন । 

সদর দরজায় রঙিন বেগনভেলিয়া ঝুঁকে ঝুঁকে পড়ে, 

আমার কিন্তু নেই বাসনা ছুয়ে  দেখবার। 


তাহলে আমার আছেটা কি? 

আছে বিনি সুতোয় বাঁধা একটি রঙিন ঘুড়ি, 

কারণে-অকারণে যাকে ওড়াই সহস্র বার। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া

29/5/2025




 



 








Friday, April 18, 2025

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে।

 ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে, পাতার পরে। 

গুড়ের নাড়ু গোল্লা পাকাই, সই ঠানদির রান্নাঘরে।

তালের সারি লম্বা ভারী, পুকুরটি চৌপল ,

আকাশ খানি হালকা হলো ,নিংড়ে সকল জল। 

সোনা মুগের ডাল, গাওয়া ঘি ,আলু লঙ্কা জিরে 

গন্ধ ছড়ায় খিচুড়িতে, খাচ্ছি শুধু চামচ  ভরে। 


ঘুম ভেঙ্গে যায় কোলা ব্যাঙের, ডাকতে থাকে জোরে, 

টুনটুনিটার  ভাঙলো বাসা ,বাচ্চারা সব গেল মরে। 

পাটকাটা, ধান ঝাড়া, রয়ে গেছে বাকি ,

টক ঝাল, আম মাখা, আমরা ছবি আঁকি ।

গরু গুলো দাঁড়িয়ে ভেজে, ওই দেখা যায় দূরে 

দিদিমা চলেন গুটি গুটি নাতির হাতটি ধরে। 


ওই যে আবার রোদের ঝিলিক চিকটিকিয়ে ওঠে 

খুশির হাওয়া ছুঁয়ে গেল রাঙা দিদির ঠোঁটে ।

নাড়ু গুলো ফুরিয়ে গেল ঠান্ডা হতে হতে ,

মিষ্টি যত হয়নি খাওয়া, দই রয়েছে পাতে ।

জল জমেছে খালে বিলে আর হলুদ ধানের মাঠে, 

গান ধরেছি আমরা সবাই বিছানা পাতা খাটে ।


রঙিন ছাতা, বাদাম ভাজা, কালো নুনের গুঁড়ো 

গাছের গোড়ায় আমের গুটি কেউ করেছে জড়ো 

তবলা বাজায় আপন ভুলে 

পুঁচকে ছোড়া ছন্দ তুলে। 

ওই যে আবার বৃষ্টি পড়ে, ফোটায় বড় বড় -

বাঁধের পাড়ে গরিব মানুষ ভয়ে জড়োসড়ো। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ 

১৮/৪/২৫




Saturday, April 12, 2025

বসু বাড়ির দিদা

 👵👵একলা হাসে একলা গায়

বসু বাড়ির দিদা।

রোজ শনিতে মানত করে

গীতা পড়েন সদা।


কারো তেমন ধার ধারে না

দিনেই চলে ফেরে,

বুধ বারেতে ভাজবে লুচি

কাপড় জামা ছেড়ে।


পূজো -পার্বণ লেগেই থাকে

বিধি-নিষেধ কত,

তিন বেলাতে ঠাকুর সেবা

প্রসাদ কতো শত।


হাজারো লোক আসতে থাকে

যেমন খুশি খায়,

তারা আবার পোটলা বেঁধে

খাবার নিয়ে যায়।


দিদার ভীষণ দরাজ হাত

বিলিয়ে দিয়ে খুশি,

প্রনাম দিলে তবেই তাঁর

মুখে ফুটবে হাসি।


বসু বাড়ির তিনটে ছেলে 

কেউ থাকেনা বাড়ি।

উনিই একা পাহারাদার

সময় মাপে ঘড়ি।


কৃষ্ণ ঠাকুর, জপের মালা

সাধু ভক্তের ভোজ,


দিদা থাকেন একলা ঘরে

কেউ রাখেনা খোঁজ।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১১/০৪/২০২৫





Wednesday, April 9, 2025

তিতি

গঙ্গা পাড়ের সূর্য্যি যখন

ডুব দিয়েছে একা।

জল হয়েছে  সোনায় রাঙা

পটের ছবি আঁকা।


ময়না দিদি দেখতে থাকে 

সাঁঝের তারা ওঠে।

পাড়ার মাসি প্রনাম করে

জাহাজ থামে ঘাটে।


বাড়ির সারি দুই পাড়েতে

ঝল-মলানি আলো,

ঘুম পাড়ানি মিঠে হাওয়া

মন করেছে ভালো।


কত মানুষ নদীর ধারে

আপণ মনে বসে।

সুখ দুঃখের কতই কথা

বলছে মিলে মিশে।




নিজের মতে বিয়ে করেই

যেই হারালো তিতি।

খেয়া ঘাটেই মরণ হলো

কেউ দিলনা বাতি।


তিতির ছিল আকাশ জোড়া

বড় হবার মন,

এমনি করেই হারিয়ে গেল

দুঃখী মায়ের ধন।


নদীর বুকে জাগলো কত

বালি বোঝাই চর,

মাছ শুকালো জেলের দল

কেউ বেঁধেছে ঘর।


তিতির কথা কেউ বলেনা

সবাই গেছে ভুলে।

গাঙ্গের জলে বাণ এসেছে

নৌকা গেল খুলে।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া, পশ্চিম বঙ্গ।

৯/৪/২০২৫






 

Sunday, April 6, 2025

নুতন করে

 নুতন করে ভালবাসার কথা যদি

বলতে পারো আবার,

তবে স্নান সেরে আসি দামোদরের জলে।

জাগা বালু চরের কাশ ফুলের বনে

হারাবো আবার নিজেকে।

যত্ন করে এনে দিই

শাল পাতায় গরম জিলাবি।


জানি ভালোবাসার নুতন পুরাতন বলে কিছু নেই।

হৃদয় চাপা হাজারো হাহাকার,

অগুনতি খুশির ছোটো ছোটো কথা, 

নূতন করে বাঁচতে শেখে, বেরিয়ে আসে ভীড় পথে।

চোখ বেয়ে নামে খরস্রোতা জাহ্নবী।


পড়ে থাকা সাদা মহুয়া ফুলের গন্ধ মেখে

শাল পলাশের বনে ঘুরে ঘুরে ,

পুরাতনী গান গাই নুতনের সুরে।

প্রাণ ফিরে পায় রাগ ভৈরবী।


নুতন করে ভালোবাসি বললেই

জীবন ভেসে যায় দামোদরের নিষ্পাপ জলে।

ঝাউয়ের দোলায় ওড়না উড়ায় ,

কাছে ডেকে আনে অতি চেনা বাসবী।


নূতন করে যদি বলো ভালোবাসি আবার

তবে চোরা বালু  স্রোতে সাঁতার কাটি ,

উড়ে উড়ে খড় কুঁটো জোগাড় করি,

নূতন দিনের আলো শেষ হতে হতে

হাজার ফুল ফোটাক বিষাক্ত করবী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

৬/৪/২০২৫











Sunday, March 30, 2025

রাজার ভুঁড়ি

 বিচার চাই গো বিচার চাই 

রাজা বললো হেঁকে 

"আমার প্রজা মরছে কেন 

কোন অজানা  শোকে ? "


আমিই রাজা আমিই সব 

তবু প্রজা যাচ্ছে মারা।

বুঝতে আমি পারছি নাকো 

সুখ যেখানে ভরা। 


সঠিক কথা রাজা মশাই 

মড়ক এলো দেশে।

টাকার থলি সবই শেষ 

রোগ সারবে কিসে? 


হঠাৎ করে আকাশ থেকে 

নামলো সাদা পরী।

বললো "রাজার কেন 

মস্ত বড় ভুঁড়ি?"


ভুঁড়ির মধ্যে সব গিয়েছে

হীরে মানিক সোনা। 

টাকার কথা নাইবা বলি

শেষ হবেনা গোনা। 


প্রজার আরো করলে সেবা 

সবাই যাবে বেঁচে ।

রাজ্য জুড়ে বইবে খুশি 

উঠবে তারা নেচে।


বিচার কর নিজের আগে 

দেশের তুমি রাজা।

প্রজার হাতে তোমার বাঁচা 

তোমার যত মজা। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

২৯/৩/২৫















Saturday, March 22, 2025

শিব ঠাকুরের ঘর

বাড়ির পাশে চূর্ণী নদী 
আপন মনে বয়। 
দুই পারেতে সবুজ সারি 
সুখের কথা কয়। 

মেঘের ছবি জড়িয়ে বুকে
জল করেছে কালো। 
হাঁসের দলে সাঁতার কাটে 
শীত জড়ানো আলো। 

হাজার ঘাটে হাজার কথা 
নানা রকম কাজ। 
দুঃখের কথা কইতে মানা 
নামলে পরে সাঁঝ।

বাপ সোহাগী মেয়ের কথা 
তোমায় বলি শোনো। 
সোনার বালা খুঁজতে গিয়ে 
ঠাকুর খুঁজে পেলো। 

নদীর পাড়ে উলুর ধ্বনি 
রাখে ফুলের ডালা।
এক নিমেষে উঠলো গড়ে 
শিব ঠাকুরের চালা। 

কাঁচা হলুদ মাখলো গায়ে 
মেয়ের হলো বিয়ে।
আকাশ জুড়ে উড়তে থাকে 
সবুজ পাখি  টিয়ে ।

নতুন বউ নদীর মেয়ে 
কান্না ভেজা চোখে, 
বালু চরায় দাঁড়িয়ে পড়ে 
কেবল নদী দেখে ‌।


ঘাট পেরিয়ে  চললো মেয়ে 
সঙ্গে নিয়ে বর। 
নদীর পাড়ে রইল পড়ে 
শিব ঠাকুরের ঘর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 
বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 
২৩/৩/২০২৫






 

সম্বল

👧👧 আমার কিছুই  নেই তোমাকে দেওয়ার মত-- সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল, নিলেও নিয়ে যেতে ...