Tuesday, February 18, 2025

কুসুম কুমারী হারিয়ে গেছে।

বিচিত্র এক ছায়া লোকে 

আমি চলেছিলাম  একান্তে নিঃশ্চুপে।

সেই তুলনায় তোমরা অনেক অনেক বেশি 

আত্মঘন দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্গমতা  অতিক্রম করছিলে

সুউচ্চ রঙিন কোলাহলে। 


আমার ছাদের টেরাকোটার টবে টবে 

অসংখ্য পিপুল লতার দল ,


একে বেঁকে এগিয়ে চলে আপন মনে,

আরো ঝকঝকে আলোর খোঁজে। 


আমি নিঃশব্দে বসে থাকি তারই কাছে ,

অতি বিশ্বস্ত একান্ত আপন সান্নিধ্যে। 

কিন্তু তোমরা নিস্তেজ আলোর নিশিতে, 

সুর চড়াচ্ছিলে ঝাঁঝালো মদিরাতে। 


বিমোচিত প্রেমে বিরহী মন,

নির্বাক প্রকৃতির আলিঙ্গনে 

আমি একাকি  স্বপ্ন মায়ায় শায়িত ।

তোমরা কিন্তু ভীষণই অশান্ত ফেনায়িত  ঢেউ ,

কালবৈশাখী ঝড়ের মত দুরন্ত।


আর এই মোহ চক্রেই হারিয়ে গেছে 

ভালোবাসার মানুষ তোমাদের ভিড়ে। 

দিন পাল্টানোর আন্দোলনের হাতছানিতে 

শহরের রাজ পথে পথে সে শত শত মানুষের 

দুঃখ খোঁজে, চোখের জল মোছে।


আমি যেরকম ছিলাম, ঠিক তেমনিই আছি 

অজানা পথে পথে, একলা ঘুরে ঘুরে বাঁচি ।

ভালো থাকুক কুসুমকুমারী ,

বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন। জীবন রেখেছি বাজি।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১৮/২/২০২৫








 


Thursday, February 6, 2025

নীল কন্ঠ

🐦🐦 যে পাখি ডাক দিয়ে ফেরে,তাকে ডাকলে নাতো তুমি।

ফেলে গেছে সে নীল পালক খানি ,যা সবার চেয়ে দামি।।


মন যেখানে ডুব দিয়েছে, তাকে কই রেখেছো খোঁজ।

শিস দিয়ে যায় বনের পাখি ,ভোরের বেলা রোজ।।


ওই বনেতে একলা ঘুরে,  হঠাৎ পথ হারালে যেই।

ভাসিয়ে ডানা ডাকলো তোমায় , আঁখি কালো বন্ধু সেই।।


যখন ভুবন ভুলে গাইছিলে সুখ জড়ানো এক গান।

নরম পালক হারিয়ে দিলে , নীল কন্ঠ করলো দেখো মান।।


কোথায় যেন মুখ লুকিয়ে চুপি,  সে একা মন করেছে দুখী ।

উথাল পাথাল বাউল বাতাস,পাতা ঝরায় বনের যত শাখি।


নীল আকাশে ওই দেখা যায় ছোট্ট নীলচে ডানা দুটি।

সাথী তোমার উদাস দিনের, যে সোনার থেকেও খাঁটি।।🐦🐦


DR. KAJAL KUMAR BAKSHI

BAGULA ,NADIA ,WB ,741502

06/2/2025






Monday, January 27, 2025

বৃষ্টি ধারা

             বৃষ্টি ধারা👧👧


টিপ -টিপানি বৃষ্টি ধারা 

নাইতে গেছে নয়ন তারা।

চিক চিকানি রুপের ছটা

পুকুর জলে শালুক ভরা।।


বারিদ খুশি আকাশ জোড়া

রুপ মতীর আঁচল ভেজা।

ডুব ডুবানি জলের খেলা

এদিক ওদিক পদ্ম খোঁজা।।


হলদে সাদা ফুলের দোলা

পাতায় হাসে জলের ফোঁটা।

চিৎ সাঁতারে সূর্য্যি দেখা

ফুঁটলো পায়ে কুলের কাঁটা।।


রঙ বেরঙ্গের হাঁসের ডানা

জলের নীচে শ্যাঁওলা ভাসা।

ডুব দিয়েছে নয়ন তারা

ঝিনুক তুলে মুচকি হাসা।।


ক্লান্ত হলে শরীর খানা

সবাই ফেরে নাইকো তাড়া।

সবুজ ঘেরা গাঁয়ের পাড়া।

মেঘ হারালো জলের ঘড়া।।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া, 

২৮/১/২০২৫ 👧👧









Saturday, January 25, 2025

পুতু ম্যাও

আমার আছে একটি সাদা কালো আদুরে  ম্যাও ।
তোমরা কি তাকে কখনো ভালোবাসতে চাও?
তাহলে একটিবার এসে কথা বলে যাও।

কাজের মধ্যে  ঘুম ,খাওয়া দাওয়া আর কোলে চড়া।
চোখ দুটো তার মলিন গোছের ,বেশ নজর কাড়া।
দুধ, মাছ ভাত, এটা সেটা খায়, কেবল তেঁতো ছাড়া।

পুতু বলে যেই ডেকেছো তাকে অমনি হবে হাজির।
ইদুঁর ধরেছে কিংবা শালিক তেমন নেই নজির।
মাঝে মধ্যে পাড়া ঘোরে, তার সবার সঙ্গে খাতির।

আমার আছে একটি সাদা কালো লম্বা ল্যাজের ম্যাও।
তার আবার তিন তিনটে পুঁচকে পুঁচকে ছাও।
ওদের নিয়েই জীবন কাটে, বাইছি সুখের নাও।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ। 
২৫/১/২০২৫








Tuesday, January 14, 2025

মকরে হাতি

 কাঁদা ভরা ডোবায় পড়লো বনের হাতি,

বলল "তোমরা আমাকে বাঁচাও "।

পাড়ের ধারের মানুষজন বলল হেসে হেসে 

"তুমি আরো খানিকক্ষণ চেঁচাও।


দেখছো না ?আজ মকর বটে, 

কখন খাব পিঠে? আর কখনই বা তুলবো? "

পরে খাবে, আগে আমাকে তো তোলো। 

উঠলেই সব পিঠে আমি একাই খাবো।


তাই নাকি? তাহলে তুমি ওখানেই থাকো। 

বরং শুঁড় তুলে ডাকো তোমার মাকে।

ভ্যাবলা হাতি পড়ে ডোবার জলে ,

আর টুসু টুসু গান ধরেছে গাঁয়ের লোকে।


নাচ হলো, গান হল, বাজলো জোরে ধামসা ,

মোরগ লড়াই চললো বেদম মেলার মাঝে।

জিলাপি খেয়ে হাতি 🐘 উঠল দড়ির টানে,

খুশিতে আগুন জ্বলল বনের হিমেল সাঁজে।


টুসু খেলো মাংস পিঠা, হাতি গেল বনে ,

নদীর জলে ডুব দিলে কে? নুতন গামছা নিলে কই? 

হাতিগুলো ওই চলে যায়, হেলে দুলে আপন মনে,

আর মকর  দিনে মদনা পেলো মন জুড়ানো সই।



ডাঃ কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, 

১৫/১/২৫






















Tuesday, December 24, 2024

রোদ্দুর হলো মিঠে

 রক্তিম বললো "আমি তোমাকে ভালোবাসি"।

কাজরী ও বললো "আমিও তোমাকে ভালবাসি"।

তারপর শুধুই হাসি............

সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল হলদে সরষে ফুলের মাঠে, 

চূর্ণী নদীর শান্ত জলে, প্রতিটি ব্যস্ত ঘাটে ঘাটে,

সবই হলো রঙ্গিন, শীতের রোদ্দুর হলো আরো মিঠে।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

২৪/১২/২০২৪








Saturday, December 7, 2024

শয়তান বাবা

 মা আমার বাবার নাম কি? আমার বাবা কোথায়?

-- আমার রোজ রোজ একই  প্রশ্ন শুনতে ভাল লাগেনা। বললাম তো, ওই পাক সেনারা জানে তোর বাবার কথা। 

--তারা জানবে কেন? 

--- ঘন্টা খানেকের মধ্যে কাকেই বা চিনে রাখা যায় আর কাকেই বা মনে রাখা যায়। 

--ঘন্টাখানেক কেন? বাবা কি  কিছুদিনের জন্যও  কখনো এই বাড়িতে থাকেনি ?

--একটা লোক বলল "আমি আসছি একটু পরেই। তুই এখানেই থাকবি। "

--তারপর সে আর কখনো ফিরে আসেনি, কোনদিন দেখিনিও তাঁকে আর।

--তোমার কাছে কি কোন ছবি বা চিহ্ন কিছুই ছিল না? 

--থাকবে না কেন? কিন্তু সেটা দেখানোর মতো নয় তোকে। শুধু একটা লোহার বালা হাত থেকে খসে পড়েছিল, সেটাই রেখে দিয়েছি। পরে তোকে দেখাবো। 

এবং সেটাই শেষ চিহ্ন তার। 

-- পরে অবশ্য খোঁজখবর নিয়ে জেনেছিলাম ভারতীয় সৈন্যরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর আর জানিনা কিছুই। 

-- মা ,আমি আজ থেকে পাকিস্তানের দলে। আমি পাকিস্তানে যাব বাবাকে খুঁজতে। 

--কি সব পাগলের মত কথা বলছিস। এখন কি আর তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 

--তবে তারা চলে গেলেও এই বাংলায় হাজার হাজার রক্ত বীজ রোপন করে গেছে। তার মধ্যে তুই একটা। হাজার হাজার মা-বোনেদের ইজ্জত রক্ষা করেছে, প্রাণ বাঁচিয়েছে এই ভারতীয়রা। আমি তাদেরই দলে। 

--তুই একটা বিষাক্ত সাপের ফনা। তোর ছোবলে অনেক মা সন্তানহারা হতে পারে। 

-- কালই তুই আমার এই ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাবি কোথাও।

 --সারা জীবন ধরে তুই তোর শয়তান বাবাকে খুঁজে বেড়া। আমি আর কিছু বলবো না। 

লাদেন অনেকক্ষণ বোকার মত ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলো। তার চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গেল। চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হতে লাগলো। 

কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পাগলের মত দৌড়ে ঘরের ভিতর থেকে ইয়া বড় একটা রামদা বের করে রাস্তার দিকে  দৌড়াতে শুরু করল।

তারপর বলতে শুরু করলো" পাকিস্তান জিন্দাবাদ। ভারত তুমি নিপাত যাও আমার বাবাকে খুঁজে দাও। ভারত তুমি দুর হটো আমার বাবাকে খুঁজে আনো। নইলে তোমার মুণ্ডু চাই আমার বাবা ফেরত  পাই। "

ছেলে চলে যাওয়ার পর লাদেনের মা প্রায় পাগলিনীর মত দৌড়ে ঘরে ঢুকে হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করল। সেই ভাঙ্গা টিনের বাক্স থেকে একটা ছেড়া রক্তমাখা, বীর্যের দাগ লাগানো  কাপড় টেনে বার করলো। কাপড়টা জড়িয়ে ধরে সে কাঁদতে লাগলো। চিৎকার করে করে বলতে লাগলো "পাকিস্তান তুমি দুর হটো। আমার দেশের মাটি শুদ্ধ করো। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। ভিক্ষে করে খাবার খাও। লক্ষ্য মায়ের অভিশাপ তোমার গায়ে। পাকিস্তান তুমি নিপাত যাও। আমাদের একটু শান্তিতে ঘুমাতে দাও।

অচৈতন্য অবস্থায়  লাদেনের মা একা ঘরে শুয়ে থাকলো।

 কেউ তাঁকে খুঁজতে এলোনা আর। ঘুমের মধ্যে কেউ যেন তাঁকে ফিসফিস করে বলতে লাগলো, আমরা এখনো মরে যায়নি, আমরা আবার আসছি, আবার তোদের হাজার হাজার মায়ের ,বোনের রক্ত টেনে নেব। হাজার হাজার রক্তবীজ রোপন করব। তোদের চোখের জল যতক্ষণ না শুকিয়ে খাক হয়ে যাবে ততদিন আমরা আসতেই  থাকবো।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া,

৭/১২/২০২৪







এই দেশে

চলো চলো ওই দূরে ঘুরে ঘুরে পথ চিনে।  ধান ক্ষেত পাশে রেখে ঢুকে পড়ি কাশ বনে।  খাল বিল লাফ দিয়ে এসে পড়ো নদী পাড়ে।  কালো জলে চাঁদ ভাসে গান গা...