Wednesday, April 9, 2025

তিতি

গঙ্গা পাড়ের সূর্য্যি যখন

ডুব দিয়েছে একা।

জল হয়েছে  সোনায় রাঙা

পটের ছবি আঁকা।


ময়না দিদি দেখতে থাকে 

সাঁঝের তারা ওঠে।

পাড়ার মাসি প্রনাম করে

জাহাজ থামে ঘাটে।


বাড়ির সারি দুই পাড়েতে

ঝল-মলানি আলো,

ঘুম পাড়ানি মিঠে হাওয়া

মন করেছে ভালো।


কত মানুষ নদীর ধারে

আপণ মনে বসে।

সুখ দুঃখের কতই কথা

বলছে মিলে মিশে।




নিজের মতে বিয়ে করেই

যেই হারালো তিতি।

খেয়া ঘাটেই মরণ হলো

কেউ দিলনা বাতি।


তিতির ছিল আকাশ জোড়া

বড় হবার মন,

এমনি করেই হারিয়ে গেল

দুঃখী মায়ের ধন।


নদীর বুকে জাগলো কত

বালি বোঝাই চর,

মাছ শুকালো জেলের দল

কেউ বেঁধেছে ঘর।


তিতির কথা কেউ বলেনা

সবাই গেছে ভুলে।

গাঙ্গের জলে বাণ এসেছে

নৌকা গেল খুলে।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা,নদীয়া, পশ্চিম বঙ্গ।

৯/৪/২০২৫






 

Sunday, April 6, 2025

নুতন করে

 নুতন করে ভালবাসার কথা যদি

বলতে পারো আবার,

তবে স্নান সেরে আসি দামোদরের জলে।

জাগা বালু চরের কাশ ফুলের বনে

হারাবো আবার নিজেকে।

যত্ন করে এনে দিই

শাল পাতায় গরম জিলাবি।


জানি ভালোবাসার নুতন পুরাতন বলে কিছু নেই।

হৃদয় চাপা হাজারো হাহাকার,

অগুনতি খুশির ছোটো ছোটো কথা, 

নূতন করে বাঁচতে শেখে, বেরিয়ে আসে ভীড় পথে।

চোখ বেয়ে নামে খরস্রোতা জাহ্নবী।


পড়ে থাকা সাদা মহুয়া ফুলের গন্ধ মেখে

শাল পলাশের বনে ঘুরে ঘুরে ,

পুরাতনী গান গাই নুতনের সুরে।

প্রাণ ফিরে পায় রাগ ভৈরবী।


নুতন করে ভালোবাসি বললেই

জীবন ভেসে যায় দামোদরের নিষ্পাপ জলে।

ঝাউয়ের দোলায় ওড়না উড়ায় ,

কাছে ডেকে আনে অতি চেনা বাসবী।


নূতন করে যদি বলো ভালোবাসি আবার

তবে চোরা বালু  স্রোতে সাঁতার কাটি ,

উড়ে উড়ে খড় কুঁটো জোগাড় করি,

নূতন দিনের আলো শেষ হতে হতে

হাজার ফুল ফোটাক বিষাক্ত করবী।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

৬/৪/২০২৫











Sunday, March 30, 2025

রাজার ভুঁড়ি

 বিচার চাই গো বিচার চাই 

রাজা বললো হেঁকে 

"আমার প্রজা মরছে কেন 

কোন অজানা  শোকে ? "


আমিই রাজা আমিই সব 

তবু প্রজা যাচ্ছে মারা।

বুঝতে আমি পারছি নাকো 

সুখ যেখানে ভরা। 


সঠিক কথা রাজা মশাই 

মড়ক এলো দেশে।

টাকার থলি সবই শেষ 

রোগ সারবে কিসে? 


হঠাৎ করে আকাশ থেকে 

নামলো সাদা পরী।

বললো "রাজার কেন 

মস্ত বড় ভুঁড়ি?"


ভুঁড়ির মধ্যে সব গিয়েছে

হীরে মানিক সোনা। 

টাকার কথা নাইবা বলি

শেষ হবেনা গোনা। 


প্রজার আরো করলে সেবা 

সবাই যাবে বেঁচে ।

রাজ্য জুড়ে বইবে খুশি 

উঠবে তারা নেচে।


বিচার কর নিজের আগে 

দেশের তুমি রাজা।

প্রজার হাতে তোমার বাঁচা 

তোমার যত মজা। 


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

২৯/৩/২৫















Saturday, March 22, 2025

শিব ঠাকুরের ঘর

বাড়ির পাশে চূর্ণী নদী 
আপন মনে বয়। 
দুই পারেতে সবুজ সারি 
সুখের কথা কয়। 

মেঘের ছবি জড়িয়ে বুকে
জল করেছে কালো। 
হাঁসের দলে সাঁতার কাটে 
শীত জড়ানো আলো। 

হাজার ঘাটে হাজার কথা 
নানা রকম কাজ। 
দুঃখের কথা কইতে মানা 
নামলে পরে সাঁঝ।

বাপ সোহাগী মেয়ের কথা 
তোমায় বলি শোনো। 
সোনার বালা খুঁজতে গিয়ে 
ঠাকুর খুঁজে পেলো। 

নদীর পাড়ে উলুর ধ্বনি 
রাখে ফুলের ডালা।
এক নিমেষে উঠলো গড়ে 
শিব ঠাকুরের চালা। 

কাঁচা হলুদ মাখলো গায়ে 
মেয়ের হলো বিয়ে।
আকাশ জুড়ে উড়তে থাকে 
সবুজ পাখি  টিয়ে ।

নতুন বউ নদীর মেয়ে 
কান্না ভেজা চোখে, 
বালু চরায় দাঁড়িয়ে পড়ে 
কেবল নদী দেখে ‌।


ঘাট পেরিয়ে  চললো মেয়ে 
সঙ্গে নিয়ে বর। 
নদীর পাড়ে রইল পড়ে 
শিব ঠাকুরের ঘর। 

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 
বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 
২৩/৩/২০২৫






 

Wednesday, March 5, 2025

পলাশ

 পলাশ ফুটেছে বেদম বটে ,

তুই যাবি কিনা বল? 

সকল গাছের নীচে নীচে 

দেখছি মেয়ে মরদের ঢল। 


ফুল কুড়ায়ে তারা মাথায় দিচ্ছে, 

গলায় পরছে পলাশ মালা।

মিচকি মিচকি হাসছে দ্যাখো 

বন-বাদাড়ে খাচ্ছে দোলা।


তাড়াতাড়ি আয়না চলে 

তোকেও দিব রাঙ্গা ফুল। 

শাড়ি পেতে বসবো দুজন 

পরাই দিব কানের দুল।


লাল লেগেছে বনে বনে 

আনছে খুশি মনে। 

বাঁশি খানা বাজাই তবে 

মরদ নিবি চিনে।

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

৫/৩/২০২৫




 

Tuesday, February 18, 2025

কুসুম কুমারী হারিয়ে গেছে।

বিচিত্র এক ছায়া লোকে 

আমি চলেছিলাম  একান্তে নিঃশ্চুপে।

সেই তুলনায় তোমরা অনেক অনেক বেশি 

আত্মঘন দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্গমতা  অতিক্রম করছিলে

সুউচ্চ রঙিন কোলাহলে। 


আমার ছাদের টেরাকোটার টবে টবে 

অসংখ্য পিপুল লতার দল ,


একে বেঁকে এগিয়ে চলে আপন মনে,

আরো ঝকঝকে আলোর খোঁজে। 


আমি নিঃশব্দে বসে থাকি তারই কাছে ,

অতি বিশ্বস্ত একান্ত আপন সান্নিধ্যে। 

কিন্তু তোমরা নিস্তেজ আলোর নিশিতে, 

সুর চড়াচ্ছিলে ঝাঁঝালো মদিরাতে। 


বিমোচিত প্রেমে বিরহী মন,

নির্বাক প্রকৃতির আলিঙ্গনে 

আমি একাকি  স্বপ্ন মায়ায় শায়িত ।

তোমরা কিন্তু ভীষণই অশান্ত ফেনায়িত  ঢেউ ,

কালবৈশাখী ঝড়ের মত দুরন্ত।


আর এই মোহ চক্রেই হারিয়ে গেছে 

ভালোবাসার মানুষ তোমাদের ভিড়ে। 

দিন পাল্টানোর আন্দোলনের হাতছানিতে 

শহরের রাজ পথে পথে সে শত শত মানুষের 

দুঃখ খোঁজে, চোখের জল মোছে।


আমি যেরকম ছিলাম, ঠিক তেমনিই আছি 

অজানা পথে পথে, একলা ঘুরে ঘুরে বাঁচি ।

ভালো থাকুক কুসুমকুমারী ,

বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন। জীবন রেখেছি বাজি।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১৮/২/২০২৫








 


Thursday, February 6, 2025

নীল কন্ঠ

🐦🐦 যে পাখি ডাক দিয়ে ফেরে,তাকে ডাকলে নাতো তুমি।

ফেলে গেছে সে নীল পালক খানি ,যা সবার চেয়ে দামি।।


মন যেখানে ডুব দিয়েছে, তাকে কই রেখেছো খোঁজ।

শিস দিয়ে যায় বনের পাখি ,ভোরের বেলা রোজ।।


ওই বনেতে একলা ঘুরে,  হঠাৎ পথ হারালে যেই।

ভাসিয়ে ডানা ডাকলো তোমায় , আঁখি কালো বন্ধু সেই।।


যখন ভুবন ভুলে গাইছিলে সুখ জড়ানো এক গান।

নরম পালক হারিয়ে দিলে , নীল কন্ঠ করলো দেখো মান।।


কোথায় যেন মুখ লুকিয়ে চুপি,  সে একা মন করেছে দুখী ।

উথাল পাথাল বাউল বাতাস,পাতা ঝরায় বনের যত শাখি।


নীল আকাশে ওই দেখা যায় ছোট্ট নীলচে ডানা দুটি।

সাথী তোমার উদাস দিনের, যে সোনার থেকেও খাঁটি।।🐦🐦


DR. KAJAL KUMAR BAKSHI

BAGULA ,NADIA ,WB ,741502

06/2/2025






সম্বল

👧👧 আমার কিছুই  নেই তোমাকে দেওয়ার মত-- সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল, নিলেও নিয়ে যেতে ...