Wednesday, March 5, 2025

পলাশ

 পলাশ ফুটেছে বেদম বটে ,

তুই যাবি কিনা বল? 

সকল গাছের নীচে নীচে 

দেখছি মেয়ে মরদের ঢল। 


ফুল কুড়ায়ে তারা মাথায় দিচ্ছে, 

গলায় পরছে পলাশ মালা।

মিচকি মিচকি হাসছে দ্যাখো 

বন-বাদাড়ে খাচ্ছে দোলা।


তাড়াতাড়ি আয়না চলে 

তোকেও দিব রাঙ্গা ফুল। 

শাড়ি পেতে বসবো দুজন 

পরাই দিব কানের দুল।


লাল লেগেছে বনে বনে 

আনছে খুশি মনে। 

বাঁশি খানা বাজাই তবে 

মরদ নিবি চিনে।

ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

৫/৩/২০২৫




 

Tuesday, February 18, 2025

কুসুম কুমারী হারিয়ে গেছে।

বিচিত্র এক ছায়া লোকে 

আমি চলেছিলাম  একান্তে নিঃশ্চুপে।

সেই তুলনায় তোমরা অনেক অনেক বেশি 

আত্মঘন দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্গমতা  অতিক্রম করছিলে

সুউচ্চ রঙিন কোলাহলে। 


আমার ছাদের টেরাকোটার টবে টবে 

অসংখ্য পিপুল লতার দল ,


একে বেঁকে এগিয়ে চলে আপন মনে,

আরো ঝকঝকে আলোর খোঁজে। 


আমি নিঃশব্দে বসে থাকি তারই কাছে ,

অতি বিশ্বস্ত একান্ত আপন সান্নিধ্যে। 

কিন্তু তোমরা নিস্তেজ আলোর নিশিতে, 

সুর চড়াচ্ছিলে ঝাঁঝালো মদিরাতে। 


বিমোচিত প্রেমে বিরহী মন,

নির্বাক প্রকৃতির আলিঙ্গনে 

আমি একাকি  স্বপ্ন মায়ায় শায়িত ।

তোমরা কিন্তু ভীষণই অশান্ত ফেনায়িত  ঢেউ ,

কালবৈশাখী ঝড়ের মত দুরন্ত।


আর এই মোহ চক্রেই হারিয়ে গেছে 

ভালোবাসার মানুষ তোমাদের ভিড়ে। 

দিন পাল্টানোর আন্দোলনের হাতছানিতে 

শহরের রাজ পথে পথে সে শত শত মানুষের 

দুঃখ খোঁজে, চোখের জল মোছে।


আমি যেরকম ছিলাম, ঠিক তেমনিই আছি 

অজানা পথে পথে, একলা ঘুরে ঘুরে বাঁচি ।

ভালো থাকুক কুসুমকুমারী ,

বেঁচে থাকুক তার স্বপ্ন। জীবন রেখেছি বাজি।


ডাক্তার কাজল কুমার বক্সী 

বগুড়া, নদীয়া পশ্চিম বঙ্গ 

১৮/২/২০২৫








 


Thursday, February 6, 2025

নীল কন্ঠ

🐦🐦 যে পাখি ডাক দিয়ে ফেরে,তাকে ডাকলে নাতো তুমি।

ফেলে গেছে সে নীল পালক খানি ,যা সবার চেয়ে দামি।।


মন যেখানে ডুব দিয়েছে, তাকে কই রেখেছো খোঁজ।

শিস দিয়ে যায় বনের পাখি ,ভোরের বেলা রোজ।।


ওই বনেতে একলা ঘুরে,  হঠাৎ পথ হারালে যেই।

ভাসিয়ে ডানা ডাকলো তোমায় , আঁখি কালো বন্ধু সেই।।


যখন ভুবন ভুলে গাইছিলে সুখ জড়ানো এক গান।

নরম পালক হারিয়ে দিলে , নীল কন্ঠ করলো দেখো মান।।


কোথায় যেন মুখ লুকিয়ে চুপি,  সে একা মন করেছে দুখী ।

উথাল পাথাল বাউল বাতাস,পাতা ঝরায় বনের যত শাখি।


নীল আকাশে ওই দেখা যায় ছোট্ট নীলচে ডানা দুটি।

সাথী তোমার উদাস দিনের, যে সোনার থেকেও খাঁটি।।🐦🐦


DR. KAJAL KUMAR BAKSHI

BAGULA ,NADIA ,WB ,741502

06/2/2025






Monday, January 27, 2025

বৃষ্টি ধারা

             বৃষ্টি ধারা👧👧


টিপ -টিপানি বৃষ্টি ধারা 

নাইতে গেছে নয়ন তারা।

চিক চিকানি রুপের ছটা

পুকুর জলে শালুক ভরা।।


বারিদ খুশি আকাশ জোড়া

রুপ মতীর আঁচল ভেজা।

ডুব ডুবানি জলের খেলা

এদিক ওদিক পদ্ম খোঁজা।।


হলদে সাদা ফুলের দোলা

পাতায় হাসে জলের ফোঁটা।

চিৎ সাঁতারে সূর্য্যি দেখা

ফুঁটলো পায়ে কুলের কাঁটা।।


রঙ বেরঙ্গের হাঁসের ডানা

জলের নীচে শ্যাঁওলা ভাসা।

ডুব দিয়েছে নয়ন তারা

ঝিনুক তুলে মুচকি হাসা।।


ক্লান্ত হলে শরীর খানা

সবাই ফেরে নাইকো তাড়া।

সবুজ ঘেরা গাঁয়ের পাড়া।

মেঘ হারালো জলের ঘড়া।।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা ,নদীয়া, 

২৮/১/২০২৫ 👧👧









Saturday, January 25, 2025

পুতু ম্যাও

আমার আছে একটি সাদা কালো আদুরে  ম্যাও ।
তোমরা কি তাকে কখনো ভালোবাসতে চাও?
তাহলে একটিবার এসে কথা বলে যাও।

কাজের মধ্যে  ঘুম ,খাওয়া দাওয়া আর কোলে চড়া।
চোখ দুটো তার মলিন গোছের ,বেশ নজর কাড়া।
দুধ, মাছ ভাত, এটা সেটা খায়, কেবল তেঁতো ছাড়া।

পুতু বলে যেই ডেকেছো তাকে অমনি হবে হাজির।
ইদুঁর ধরেছে কিংবা শালিক তেমন নেই নজির।
মাঝে মধ্যে পাড়া ঘোরে, তার সবার সঙ্গে খাতির।

আমার আছে একটি সাদা কালো লম্বা ল্যাজের ম্যাও।
তার আবার তিন তিনটে পুঁচকে পুঁচকে ছাও।
ওদের নিয়েই জীবন কাটে, বাইছি সুখের নাও।


ডাঃ কাজল কুমার বক্সী
বগুলা, নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ। 
২৫/১/২০২৫








Tuesday, January 14, 2025

মকরে হাতি

 কাঁদা ভরা ডোবায় পড়লো বনের হাতি,

বলল "তোমরা আমাকে বাঁচাও "।

পাড়ের ধারের মানুষজন বলল হেসে হেসে 

"তুমি আরো খানিকক্ষণ চেঁচাও।


দেখছো না ?আজ মকর বটে, 

কখন খাব পিঠে? আর কখনই বা তুলবো? "

পরে খাবে, আগে আমাকে তো তোলো। 

উঠলেই সব পিঠে আমি একাই খাবো।


তাই নাকি? তাহলে তুমি ওখানেই থাকো। 

বরং শুঁড় তুলে ডাকো তোমার মাকে।

ভ্যাবলা হাতি পড়ে ডোবার জলে ,

আর টুসু টুসু গান ধরেছে গাঁয়ের লোকে।


নাচ হলো, গান হল, বাজলো জোরে ধামসা ,

মোরগ লড়াই চললো বেদম মেলার মাঝে।

জিলাপি খেয়ে হাতি 🐘 উঠল দড়ির টানে,

খুশিতে আগুন জ্বলল বনের হিমেল সাঁজে।


টুসু খেলো মাংস পিঠা, হাতি গেল বনে ,

নদীর জলে ডুব দিলে কে? নুতন গামছা নিলে কই? 

হাতিগুলো ওই চলে যায়, হেলে দুলে আপন মনে,

আর মকর  দিনে মদনা পেলো মন জুড়ানো সই।



ডাঃ কাজল কুমার বক্সী 

বগুলা, নদীয়া, 

১৫/১/২৫






















Tuesday, December 24, 2024

রোদ্দুর হলো মিঠে

 রক্তিম বললো "আমি তোমাকে ভালোবাসি"।

কাজরী ও বললো "আমিও তোমাকে ভালবাসি"।

তারপর শুধুই হাসি............

সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ল হলদে সরষে ফুলের মাঠে, 

চূর্ণী নদীর শান্ত জলে, প্রতিটি ব্যস্ত ঘাটে ঘাটে,

সবই হলো রঙ্গিন, শীতের রোদ্দুর হলো আরো মিঠে।

ডাঃ কাজল কুমার বক্সী

বগুলা, নদীয়া,

২৪/১২/২০২৪








সম্বল

👧👧 আমার কিছুই  নেই তোমাকে দেওয়ার মত-- সমুদ্রের ঢেউ ছোঁয়া ক্লান্ত পাড়ের ঝিনুক কিংবা পুকুর পাড়ের আলো করা অবহেলার ঘেটু ফুল, নিলেও নিয়ে যেতে ...